ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম
প্রকাশ : আগস্ট ২০, ২০২১

এবার ইউএনওকে অকথ্য ভাষায় গালি দিয়ে স্ট্যাটাস দিলেন বিতর্কিত সুজন!

অনলাইন ডেস্ক

তালাশ প্রতিবেদক ॥ একের পর এক নানা বিতর্কিত কর্মান্ড করে বেশ কয়েকবার সমালোচিত হয়েছিলেন বরিশাল সদর উপজেলা ছাত্রলীগের বিতর্কিত সাধারন সম্পাদক আশিকুর রহমান সুজন।

এবার সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুনিবুর রহমান সোভনকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে সমালোচনার ঝড় তুললেন বিতর্কিত সুজন। যেখানে খোদ মেয়রই তার প্রতিটি বক্তব্যে ইউএনও মুনিবুর রহমানকে মার্জিত ভাবে ইউএনও মহোদয় বলে সম্বোধন করেন ঠিক সেখানে সুজনের এমন কান্ডে হতভাক এখন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

জানা যায়, ১৮ আগষ্ট রাতে বরিশাল সদর উপজেলা প্রশাসন কার্যালয়ের প্রাঙ্গণে শোক দিবসের ব্যাণার ছেড়াকে কেন্দ্র করে ইউএনও’র বাসভবনে হামলা করেন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে গুলি বর্ষণ করেন আনসার সদস্যরা। এতে বিসিসি প্যানেল মেয়র সহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীরা গুলিবিদ্ধ হন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন নেতাকর্মীরা। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে লাঠিচার্জ করেন পুলিশ।

এ ঘটনায় ইউএনও এবং পুলিশ বাদী হয়ে দুটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় বিসিসি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ সহ কয়েকশন নেতাকর্মীকে আসামী করা হয়। এবং ১৩জনকে আটক করা হয়।

পুরো এই ঘটনাকে প্রথম থেকেই অন্যদিকে মোড় দিতে বিতর্ক সৃষ্টি করার পায়তারা চালাচ্ছেন সদর উপজেলা ছাত্রলীগের বিতর্কিত সাধারন সম্পাদক আশিকুর রহমান সুজন। ঘটনার দিন রাতে সামনের সারিতে থেকেই পুলিশ প্রশাসনের উপর মারমুখী ছিলেন সুজন। তবে উল্টো নিজেকে আহত দাবী করেন তিনি। রাতে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে ইউএনও এবং পুলিশ প্রশাসনকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করতে থাকেন সুজন।

পরে সুজন তার ব্যক্তিগত ফেইসবুক আইডিতে ইউএনও’র ছবি ব্যবহার করে অকথ্য ভাষায় গালাগাল দিয়ে একটি স্ট্যাটাস দেন। স্ট্যাটাসটি দেওয়ার পরপরই তা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। অবশ্য কয়েক ঘন্টা পরে ফেইসবুক থেকে ওই স্ট্যাটাসটি মুছে ফেলেন বিতর্কিত সুজন।

বরিশাল মহানগর ও জেলা ছাত্রলীগের একাধিক তৃণমূল কর্মীরা অভিযোগ করে বলেন, ‘একজন মূর্খ ছেলেকে যদি সদর উপজেলার মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি ইউনিটের সাধারন সম্পাদক করা হয় তাহলে তার কাছ থেকে এর চেয়ে ভালো ব্যবহার আশা করা যায় না। যে ঘটনাটি ঘটেছে এটির সুষ্ঠ একটি সমাধান আমরা সবাই চাই কিন্তু অতিরঞ্চিত হয়ে একজন ইউএনওকে এভাবে গালাগালি করা মানে কি সেটা আমরা বুঝতেছি না। অনতিবিলম্বে সুজনকে তার পদ থেকে অব্যহতি দিয়ে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি যোগ্য একজন নেতাকে এই পদে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি।’

ওই স্যাটাসের দেয়া কতটুকু যৌক্তিক জানতে চাইলে আশিকুর রহমান সুজন কোন সদুত্তর না দিতে পেরে তিনি দৈনিক আজকের তালাশকেবলেন, ‘আমার পিছনে কেন বার বার আপনারা লেগে আছেন। অনেকেইতো এসব স্ট্যাটাস দিছে। ওইটা মুছে ফেলা হয়েছে।’

উল্লেখ্য, এর আগেও বরিশালের সাবেক একজন জেলা প্রশাসককে আহাম্মক বলে ফেইসবুক লাইভ দিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছিলেন সুজন।


আপনার মন্তব্য