ঢাকা, বুধবার, ২৮শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম
প্রকাশ : জুলাই ১৪, ২০২১

ওরা আমতলীর রক্ত যোদ্ধা, ওরা মানবসেবী…

অনলাইন ডেস্ক

বরগুনা প্রতিবেদক॥ মানুষের প্রয়োজনে পাশে দাঁড়িয়ে সহযোগিতা করাই যেন ওদের নেশা। কারো রক্তের প্রয়োজন এমন সংবাদ পেলেই ছুটে যাচ্ছে সংগঠনের সদস্যরা। হাসি মুখে নিজের শরীরের রক্ত দিয়ে জীবন বাঁচাচ্ছে।

 

বলছিলাম বরগুনার জেলার আমতলী উপজেলার ধ্রবতারা ব্লাড ফাউন্ডেশন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কথা।

 

জানা গেছে, রক্তের অভাবে অপারেশন করা যাচ্ছে না, কিংবা জরুরি প্রয়োজনে অপারেশন করা হয়েছে কিন্তু রক্তের অভাবে রোগীর অবস্থা খারাপ, এমন সময় মুঠোফোন অথবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে রক্তের প্রয়োজন জানতে পারলেই সাহায্য করে সংগঠনটি। রক্ত দিয়ে জীবন বাঁচায় তারা।

 

বিগত ৬মাসে সংগঠনের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে রোগীদের প্রায় ১০০ ব্যাগ রক্ত সরবরাহ করা হয়। রক্তদাতাদের উৎসাহিত করার জন্য সংগঠনের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা প্রদানসহ বিভিন্ন বিনোদন মূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সংগঠনের অন্যতম সংগঠক লিমন চন্দ্র, মোঃ ইমরান, এইচ এম আল আমিন, মিম আক্তার, সাবিহা জাহান তোয়া, মহিউদ্দিন লিমন, সাকিবুল ইসলাম সাকিব,মিম আক্তার,মাসুদ,জিয়া সহ অসংখ্য রক্তযোদ্ধা নিয়মিতভাবে রক্তদান করছেন।

এছাড়া সংগঠনের পক্ষ থেকে এ বছর ৫০ জন ইফতার বাজার ও ঈদের বাজার বিতরণ,২০০ জনের ফ্রি রক্তের গ্রুপ নির্ণয় এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের আর্থিকভাবে সহযোগিতা করা হয়ে থাকে।

 

রক্তদাতা লিমন চন্দ্র বলেন, ‘রক্তের অভাবে যেন কোনো মানুষের মৃত্যু না হয়, সে বিষয়টি লক্ষ্য রেখেই আমরা রোগীদের জরুরি প্রয়োজনে রক্ত দিয়ে থাকি।

 

সংগঠনের সদস্য মহিউদ্দিন লিমন বলেন, ‘আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে রোগীদের রক্ত দেওয়া, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো সহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করা হচ্ছে।

 

হলদিয়ার এলাকার রোগী সুমি বলেন, ‘আমার অপারেশনের সময় অনেক চেষ্টা করেও যখন রক্তের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না তখন সংগঠনের সদস্য সোহেল নিজে রক্ত দিয়ে সহযোগিতা করেছিলেন।’

 

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পঃপঃ কর্মকর্তা ডা. মোনায়েম সাদ জানান, একজন সুস্থ-সবল মানুষ তিন মাস পর পর রক্ত দিতে পারে। এতে শরীরের কোনো অসুবিধা হয় না। জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে একজন মানুষকে রক্ত দিয়ে জীবন বাঁচানো অনেক বড় মহৎ কাজ বলেও মনে করেন তিনি।

 

এটি/এমআরএন/রাব্বি


আপনার মন্তব্য