ঢাকা, রবিবার, ৬ই ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম
প্রকাশ : অক্টোবর ২১, ২০২০

“ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী সেলিম-সালামের বিরুদ্ধে নয়া মামলা”

অনলাইন ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ সংবাদ প্রকাশের পর এবার রাজকীয় প্রাপ্য আদায় (ভূমি উন্নয়ন কর) ফাঁকির নতুন তথ্য বেড়িয়ে এসেছে বরিশাল মৃত জহির মৃধা ওয়াক্ফ এস্টেটের মোতাওয়াল্লি সেলিম-সালামের বিরুদ্ধে। বিগত দিনে প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক টাকার ভূমি উন্নয়ন কর ফাঁকির সার্টিফিকেট মামলার গ্রেফতারি পরোয়ানা মাথায় নিয়েই এবার নতুন মামলার আসামী হলেন ধরা-ছোঁয়ার বাহিরে থাকা দূর্নীতির দুই মহানায়ক। দীর্ঘ দিন যাবত রাজকীয় প্রাপ্যতা পরিশোধ না করায় এবার বরিশাল রূপাতলী মৌজার বিভিন্ন খতিয়ানের মৃত জহির মৃধা ওয়াক্ফ এস্টেটের ভূমি উন্নয়ন কর বাবদ ২ লক্ষ ৮৩ হাজার ৪ টাকা অনাদায়ে গত ৬ অক্টোবর বরিশাল সহকারী কমিশনার (ভূমি) আদালতে একটি সার্টিফিকেট মামলা (নং ০১/২০২০-২০২১) দায়ের করা হয়। যার পরিপেক্ষিতে টাকা পরিশোধের তাগিদ দিয়ে বরিশাল সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও সার্টিফিকেট অফিসার মোঃ মেহেদী হাসান স্বাক্ষরিত একটি সার্টিফিকেটমত খাতকের প্রতি নোটিশ ইতিমধ্যেই এস্টেট মোতাওয়াল্লি ১নং খাতক আলমগীর হোসেন সেলিম মৃধা ও ২নং খাতক আব্দুস সালাম মৃধার বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্তরা। সংবাদ অনুসন্ধান সূত্রে জানা যায়, বিগত প্রায় ১১-১২ বছর পূর্বে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন আওতাধীন ২৪ নং ওয়ার্ড পূর্ব রূপাতলী মৃত জহির মৃধা ওয়াক্ফ এস্টেট সুষ্টভাবে পরিচালনার করার জন্য যৌথভাবে আলমগীর হোসেন (সেলিম মৃধা) কে ১নং ও আব্দুস সালাম মৃধাকে ২নং যুগ্ম মোতাওয়াল্লি হিসেবে নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ ওয়াক্ফ প্রশাসক। নিয়োগের পর থেকেই এস্টেট দলিলের শর্ত প্রতিপালনে গাফিলতির বিস্তার অভিযোগ উঠে আসে তাদের বিরুদ্ধে।

 

এ নিয়ে ওয়াক্ফ এস্টেটের স্বত্বভোগী ওয়ারিশগণ নানা জটিলতার সম্মূখীন হয়ে তাদের দারস্ত হলেও কোন কার্যকরি ভূমিকা গ্রহন না করে ওয়াক্ফ এস্টেটের বিধান অনুসরণে শরীর ছাড়া মনোভাবে থাকে এই মোতাওয়াল্লিদ্বয়। তাদের এমন গাফিলতির কারনে ইতিমধ্যে ভূমি উন্নয়ন কর বাবদ সরকারি খাতে প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক টাকা পাওনা হওয়ায়, সরকারি দাবি আদায় আইনের ১৯১৩ এর ৪, ৫ ও ৬ ধারানুসারে সার্টিফিকেট এর অনুকূলে আংশিক কিছু জমির দেনাদার হিসেবে জহির মৃধা ওয়াক্ফ এস্টেটের মৃত কাঞ্চন আলী মৃধা ছেলে ১নং যুগ্ম মোতাওয়াল্লি আলমগীর হোসেন (সেলিম মৃধা) এবং মৃত ফজলে আলী মৃধার ছেলে ২নং যুগ্ম মোতাওয়াল্লি আব্দুস সালাম মৃধার বিরুদ্ধে ২৯ ধারা মতে গত ২০১৬ সালের ৪ এপ্রিল একটি সার্টিফিকেট মামলা (নং ৯৩/২০১৫-২০১৬) দায়ের হয়। মামলার পূর্ববর্তী সময়ে দেনার টাকা পরিশোধে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও সার্টিফিকেট অফিসার বরিশাল সদর থেকে তাদের কে নোটিশ প্রদান করা হলেও মোতাওয়াল্লিদ্বয় সেই নোটিশের কোন তোয়াক্কা না করায় ২০২০ সালের ১২ জানুয়ারী উঃভূঃঅঃ/বরিঃ/সদর/২০/৫৩ নং স্মারকে তাদের বিরুদ্ধে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও সার্টিফিকেট অফিসার বরিশাল সদর মোঃ মেহেদী হাসান স্বাক্ষরিত একটি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির দীর্ঘ আট মাস অতিবাহিত হলেও থানা পুলিশ আসামীদ্বয় আটকে ব্যর্থ হলে প্রশ্নবিদ্ধ হয় প্রশাসন। প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়া ও উচ্চতর তদবিরে ওয়ারেন্টভূক্ত আসামী সেলিম-সালাম ধরা ছোঁয়ার বাহিরে থেকে নগর দাপিয়ে বেড়ালে তথ্যবহুল অনুসন্ধানে দৈনিক আজকের তালাশ পত্রিকাসহ বরিশালের বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ নিয়ে গুরুত্বের সাথে সংবাদ প্রকাশ করা হলে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। পাশাপাশি মৃত জহির মৃধা ওয়াক্ফ এস্টেট’র বাকি বিভিন্ন মৌজার ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ের বিস্তারিত তথ্য নিয়ে কাজ করে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরিশাল সদরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। এ সময় বেড়িয়ে আসে থলের বিড়াল।

 

সূত্রে জানা যায়, বরিশাল রূপাতলী মৌজার ৫৬ নং জে.এল এর ৪৮৮, ৫৫৩, ৫৫৫, ৬৩০, ৩১৮, ২৪৪, ২৭০, ৫৫১, ৬৬১, ৬৬০, ৬৫৯, ৫৯০, ৬৪৬, ৬৪৭, ৬৫৮ খতিয়ানে ৭.৫৫ একর জমির বকেয়া ভূমি উন্নয়ন কর বাবদ ২ লক্ষ ৮৩ হাজার ৪ টাকা পরিশোধ করেনি মোতাওয়াল্লি সেলিম-সালাম। যার পরিপেক্ষিতে তাদের বিরুদ্ধে পুনরায় এই সার্টিফিকেট মামলা দায়ের করা হয়। এদিকে বিশ্বস্ত একটি সূত্রে জানা যায়, দুটি মামলার ১নং খাতক আলমগীর হোসেন সেলিম মৃধা ও ২নং খাতক আব্দুস সালাম মৃধা বিগত ৯৩/২০১৫-২০১৬ নং সার্টিফিকেট মোকাদ্দমার রাজকীয় প্রাপ্য আদায়ের নির্ধারিত পাওনা পরিশোধ না করে পুনরায় বাকি ভূমির উন্নয়নের পাওনা কর এর তথ্যাদি দপ্তরিকভাবে আড়াল করতে প্রভাবশালী মহলের আশ্রয়ে বিষয়টিকে অদৃশ্য করার মিশনে নিয়মিত জোড় তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। রাজকীয় প্রাপ্যতা আদায়ের বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও সার্টিফিকেট অফিসার বরিশাল সদর মোঃ মেহেদী হাসান এর সাথে আলাপকালে তিনি জানান, “আমারা আইনের পরিপূর্ণ বিধি অনুসরন করে রাজকীয় এই পাওনা টাকা আদায়ে কাজ করছি। যদি তারা এই পাওনা পরিশোধে কোন ভূমিকা পালন না করে তবে আইনের ধারা অনুসারে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে”। পাশাপাশি এস্টেটভূক্ত বাকি মৌজাধীন ভূমির উন্নয়ন কর আদায়ে দপ্তরিকভাবে তথ্য উপস্থাপনের জন্য তারা নিয়মিত কাজ করছে বলে নিশ্চিত করেন এই কর্মকর্তা।

 

এদিকে জহির মৃধার ওয়াক্ফ এস্টেটের বাকি বিভিন্ন মৌজার ভূমির উন্নয়ন কর বাবদ আরো লক্ষ লক্ষ টাকা পাওনা রয়েছে বলে সংবাদ অনুসন্ধান সূত্রে জানা যায়। যার পরিপেক্ষিতে এস্টেট নিলামের আশংকা করছে স্বত্বভোগী ওয়ারিশগণ। অন্যদিকে আসামীদ্বয়ের মধ্যে ১নং যুগ্ম মোতয়ালী আলমগীর হোসেন সেলিম মৃধা বিগত মামলায় হাইকোর্ট পিটিশন করে ২০২০ সালের ১০ আগস্ট পর্যন্ত ৬ মাসের জন্য তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট আদেশ স্থগিত করান। সেই সময় অতিবাহিত হলেও পরবর্তী কোন সু-নির্দিষ্ট আইনী বিধিমালায় রাজকীয় পাওনা টাকা পরিশোধে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না সেলিম মৃধা। এ বিষয়ে সংবাদ অনুসন্ধানে জানা যায়, সেলিম মৃধার হাইকোর্ট থেকে স্থগিতাদেশ তারিখের বিষয়টি খতিয়ে দেখা পূর্বক তার বিরুদ্ধে পুনরায় আইনি প্রক্রিয়া বাস্তাবায়ন করবে সংশ্লিষ্ট দপ্তর। এসময় ২নং আসামী আব্দুস সালাম মৃধার বিরুদ্ধে পূর্ব মামালার ওয়ারেন্ট আদেশ বহাল রয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়। পাশাপাশি যত দ্রুত সম্ভব আসামী আটকে থানা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বরাবর পুনরায় দপ্তর থেকে তাগিদ নোটিশ প্রেরণ করা হবে বলে জানা গেছে। (জহির মৃধা ওয়াক্ফ এস্টেটের বিভিন্ন অনিয়ম-দূর্নীতির তথ্য নিয়ে কাজ করছে দৈনিক আজকের তালাশ পত্রিকার অনুসন্ধান মাধ্যম। তথ্যবহুল ধারাবাহিক এই প্রতিবেদনের সবটুকু সংবাদ জানতে পরবর্তী পর্বের জন্য নিয়মিত চোখ রাখুন পত্রিকার পাতায়)।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর
error: Content is protected !!