করোনায় ঘরে বন্দি শিশু কিশোরদের উচ্ছ্বল শৈশব !

প্রকাশিত: ৫:২৭ অপরাহ্ণ, মে ৩০, ২০২০

করোনায় ঘরে বন্দি শিশু কিশোরদের উচ্ছ্বল শৈশব !

শিশুরা বাধ্য হয়েই ঘরোয়া বিনোদন নির্ভর হয়ে পরেছে।
মোঃ এনামুল হক সজল লেখক :-
বেশীর ভাগ শিশু কিশোররা খেলাধুলা করার জন্য প্রায় পাগল হয়ে যায়।শিশু কিশোরদের খেলাধুলার জন্য মহল্লার মধ্যে পর্যাপ্ত মাঠ নেই। মাঠ থাকলেও করোনার কারনে সেই মাঠে শিশু সন্তানদের খেলাধুলার জন্য নিয়ে যেতে সাহস পান না সন্তানের পিতামাতারা। তাই বাধ্য হয়েই আধুনিক ও নিত্য নূতন তথ্য প্রযুক্তির যুগে টিভি এবং কম্পিউটার নিয়ে পড়ে থাকতে বাধ্য হচ্ছে শিশুরা।আমার মনে হয় সমাজ কাঠামোতে যেটা অশনিসংকেত। শহরে ফ্ল্যাটে বন্দি জীবনযাপনে দিন দিন ছোট হয়ে আসছে তাদের পৃথিবী। কখন যে এসব শিশুদের উচ্ছ্বল শৈশব হারিয়ে যাচ্ছে সেটা শিশুরা নিজেরাও টের পাচ্ছে না। সারাদিন বাসায় থেকে থেকে শারীরিক বিভিন্ন ধরনের রোগ শোকে আক্রান্ত হয়ে পড়ছে।ভবিষ্যতে এই শিশু কিশোররা সংকীর্ণ মানসিকতা নিয়ে বেড়ে উঠতে বাধ্য হচ্ছে বলে মনে করছেন অনেক অভিভাবক।
শহরের শিশু কিশোররা চার দেয়ালে বন্দি। অনেকটা জেলখানার মতোই মনে হয়। বাসার বারান্দা ছাড়া আর কোনো ফাঁকা জায়গা নেই। শিশু কিশোরদের পড়াশোনা ও খেলাধুলা করতে ভালো লাগে, কিন্তু বর্তমানে করোনার কারনে স্কুলে যেতে পারছে না। এ কারনে বাসায় থাকতে হয় অনেকটা বদ্ধ পরিবেশে।
গ্রামের শিশুদের বেড়ে ওঠার চিত্র শহরের শিশুদের পুরোপুরি উল্টো। তুলনামূলক কম ভেজাল খাবার এবং আলো বাতাসে ভরা খোলামেলা পরিবেশে বেড়ে ওঠার কারণে কম অসুখ বিসুখে ভোগেন। শহরে কৃত্রিম উপায়ে যন্ত্রের সাহায্যে খেলাধুলাই হয়ে উঠছে শিশুদের একমাত্র বিনোদনের মাধ্যম। তাও অপ্রতুল।
আমাদের দেশের ছোট ছোট শিশু কিশোররা আকাশ সংস্কৃতির আগ্রাসনে পড়ে গেছে। সারাদিন টিভিতে হিন্দিতে ডাবিং করা বিভিন্ন কার্টুন দেখেন। সে ঠিক মতো বাংলাই বলতে পারে না কিন্তু নিয়মিত হিন্দিতে ডাবিং করা কার্টুন দেখার কারণে শিশুটি হিন্দি এরই মধ্যে রপ্ত করে ফেলেছে। হিন্দিতে ডাবিং করা বিভিন্ন অনুষ্ঠানের বিরূপ প্রভাব সম্পর্কে বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুরা আগ্রহ নিয়ে ছোট পর্দায় হিন্দিতে ডাবিং করা বিভিন্ন জনপ্রিয় কার্টুন চলচ্চিত্র দেখে বাংলা ভাষা ভুলতে বসেছে। হিন্দি ডাবিংকৃত কার্টুন এবং ভারতীয় টিভি চ্যানেলের ধারাবাহিকের মাধ্যমে যে ভাষা ও সাস্কৃতিক জীবন ফুটে উঠেছে তা শিশুমনে তো বটেই বড়দের মধ্যেও প্রভাব ফেলছে। আমাদের শিশুরা টিভিতে আগে ইংরেজি ভাষায় কার্টুন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে টম এন্ড জেরি কিংবা অন্যান্য সিরিজ দেখে শুধু আনন্দই পেতো না, ইংরেজী ভাষায় দক্ষতা অর্জন করতো। এটা শিক্ষা ও কর্মজীবনে সহায়ক। অথচ আজ চ্যানেল খুললেই এগুলোতে হিন্দি ভাষায় প্রদর্শিত হচ্ছে। আকাশ সংস্কৃতির আধিপত্য দিয়ে নব্য সাংস্কৃতিক উপনিবেশ এ দেশে তৈরি করা হচ্ছে বলেও মনে করেন অনেক বিশেষজ্ঞগণ।
শিশুরা ঘরোয়া বিনোদন নির্ভর হয়ে পড়ার কারণ, শহরের শিশুদের খেলাধূলার পর্যাপ্ত মাঠ নেই। হাতে গোণা যে ক’টা মাঠ আছে সেগুলোতে অপরিচ্ছন্ন নোংরা পরিবেশ, মাদকসেবীদের অবাধ বিচরণের ফলে সেখানে শিশু কিশোরদের খেলার কোনো পরিবেশ দেখা যায় না। তার উপর করোনা মহামারির কারনে শহরের শিশু কিশোররা তো ঘর থেকেই বের হচ্ছে না। ফলে শিশুরা বাধ্য হয়েই ঘরোয়া বিনোদন নির্ভর হয়ে পরেছে। হিন্দিতে ডাবিং করা কার্টুন এবং বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান নিয়ে পড়ে থাকতে বাধ্য হচ্ছে। পিতা মাতা তাঁদের সন্তানদের নিয়ে উচ্ছাকাংখা, পড়াশোনার চাপ, দলগত খেলাধুলার সুযোগ না থাকা ইত্যাদি কারণে শিশুর মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। মূলত যেসব শিশু খেলাধূলার সুযোগ পায় না, তারা বিষণ্নতায় ভোগে এবং যারা ভিডিও গেমস খেলে সময় কাটায়, তাদের মধ্যে বেপরোয়া ভাব বেশি। শিশুরা জাতির ভবিষৎ তাদের পৃথিবীকে যতটুকু সম্ভব উন্মুক্ত করে দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে। শিশুরাই জাতির ভবিষ্যৎ কর্ণধার। সেই শিশুর শারীরিক এবং মানসিক বিকাশে করণীয় পদক্ষেপগুলোর মধ্যে অন্যতম দূষণমুক্ত পরিবেশ ও পিতা মাতাদের সচেতনতা।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, খেলার মাধ্যমে মনে যে চঞ্চলতা বা উচ্ছ্বলতা আসে তা আর কোনো উপায়ে সম্ভব নয়। কিন্তু এখনকার বাচ্চারা তা থেকে বঞ্চিত হওয়ায় অনেক সময় দেখা যায় ইন্টারনেটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় কাটায়। তাতে সুফলের পরিবর্তে অনেক সময় বাচ্চাদের মধ্যে এক ধরনের স্থবিরতা লক্ষ্য করা যায়। তা থেকে অনেকে আবার মাদকাসক্ত হয়। এ থেকে রেহাই পেতে আমাদের সচেতন হতে হবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ