ঢাকা, রবিবার, ১৬ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম
প্রকাশ : এপ্রিল ১৯, ২০২১

গলাচিপার ভাইরাল দম্পত্তি পেলো প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ঘর

অনলাইন ডেস্ক

মোঃমাজহারুল ইসলাম মলি  গলাচিপা(পটুয়াখালী)প্রতিনিধিঃ

পটুয়াখালীর গলাচিপায় চিকনিকান্দী ইউনিয়নের সূচিত্রা রানী দাস দুঃখ দুর্দশার কথা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরে এবং বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশিষ কুমারের নজরে আসে। তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মুজিব বর্ষ উপলক্ষে গৃহহীনদের জন্য প্রদত্ত ঘর থেকে তাকে একটি ঘড় দেওয়ার প্রতিশ্রুতি প্রদান করে। ২ সন্তান কে নিয়ে সূচিত্রা রানী দাসের এখন আর অন্যের ঘরে বা ঝুপড়ি ঘরে থাকতে হবে না। ভূমিহীন ও গৃহহীন হতদরিদ্র সূচিত্রা রানী দাস এখন সন্তানদের নিয়ে থাকতে পারবেন নিজ ঘরে। শুধু ঘরই নয়, থাকছে নিজ নামে দুই শতক জমি, সুন্দর বসবাসের নিরাপদ সুবিধা। মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারদের বিনা টাকায় ঘর উপহার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারদের মধ্যে নতুন ঘর উপহার দেওয়া হচ্ছে। নতুন ঘর পাওয়া ভূমিহীন ও গৃহহীন সূচিত্রা রানী দাসের চোখে মুখে এখন অনাবিল স্বপ্ন। বাড়ি পাওয়ার আনন্দে ভূমিহীন সূচিত্রা রানী দাসের চোখে এসেছে আনন্দ অশ্রুর বান। ঘর পাওয়ার কথা শুনে কেমন লাগছে, জিজ্ঞেস করায় সূচিত্রা রানী দাস বলেন, ‘আমি ছোট ছোট ২ ছেলে মেয়ে নিয়ে মানুষের জায়গায় ঘর ভাড়া নিয়ে থাকি। স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারিনি যে, আমি জমিসহ ইটের একখানা নতুন ঘর পাবো। শেখ হাসিনার সরকার আমাকে ইটের ঘর দিবেন। এই বয়সে ইটের ঘরে থাকতে পারবো। আমি ভীষণ খুশি হয়েছি ঘর পেয়ে। দোয়া করি শেখ মুজিবের বেটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য।’ ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা বিবেক দেবনাথ বলেন, আসলেই সূচিত্রা রানী দাস অসহায় নারী। চিকনিকান্দী ইউনিয়নে বড় ব্রিজের গোড়ায় একটি পরিত্যক্ত বাসায় থাকেন। তার জমা জমি কিছুই নাই। ঘর পাওয়ায় আমার ওয়ার্ডের সকল মানুষ খুশি। ইউপি চেয়ারম্যান সাজ্জাদ হোসেন রিয়াদ বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘর আমার ইউনিয়নের অনেকেই পেয়েছে। সূচিত্রা রানী দাস একজন অসহায় নারী হিসেবে এই ঘর পাওয়ায় আমরা আনন্দিত। চিকনিকান্দী ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. মস্তফা বলেন, অসহায় হত দরিদ্রদের জন্য সরকারিভাবে দুই শতাংশ জমি দেয়া হচ্ছে। আমার ইউনিয়নে অসহায় দরিদ্রদের পাশে থেকে কাজ করছি এবং করব। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এসএম দেলোয়ার হোসেন বলেন, উপজেলার সকল অসহায়দের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মুজিববর্ষের ঘর দেয়া হচ্ছে এবং স্বচ্ছ ও সঠিক ভাবে কাজ চলছে। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, যাচাই বাছাই করে সঠিক এবং অসহায় হত দরিদ্রদেরকে সরকারি খাস জমিতে ঘর দেয়া হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশিষ কুমার বলেন, ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য চমৎকার পরিবেশে মানসম্মত টেকসই ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। এসব ঘরে আশ্রয় পাওয়াদের অধিকাংশই রাস্তার ধারে ফুটপাত বা কারও আশ্রয়ে বসবাস করতেন। প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ঘর উপহার পাওয়ায় তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে। পর্যায়ক্রমে উপজেলার শতভাগ দরিদ্র জনগোষ্ঠী যাদের জমি ও ঘর নাই, তাদের বসবাসের জন্য বাড়ি করে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুহাম্মদ শাহিন শাহ বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবর্ষ উপলক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা অসহায়, ভূমিহীন, গৃহহীন, হত দরিদ্রদের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। তারই ধারাবাহিকতায় উপজেলায় শত শত ঘর দিচ্ছেন। আপনারা সকলে জননেত্রী শেখ হাসিনার জন্য দোয়া করবেন। তিনি ভাল থাকলে উন্নয়নের ধারা অব্যহত থাকবে। ১১৩ পটুয়াখালী-৩ গলাচিপা-দশমিনা আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য এস এম শাহজাদা সাজু (এমপি) বলেন, মুজিব শত বর্ষে গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলায় গৃহহীন মানুষ প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ঘর পাওয়ায় আনন্দিত।


আপনার মন্তব্য

error: Content is protected !!