ঢাকা, শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

শিরোনাম
প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২০

জালিয়াতির ঘটনায় শেষ রক্ষা হচ্ছে না মাওঃ নাসিরের

অনলাইন ডেস্ক

মিডিয়া ম্যানেজে ব্যর্থ নাসির এবার ছুটছেন ভিন্ন কৌশলে
নিয়োগের স্বচ্ছতা নিয়ে তদন্ত করবে সদর উপজেলার ইউএনও

তালাশ প্রতিবেদক ॥ নিয়োগ প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করে শেষ রক্ষা হচ্ছে না জালিয়াতির মূলহোতা অবৈধ অধ্যক্ষ মাওঃ নাসিরের। মোটা অংকের দেন-দরবারে অধ্যক্ষ পদ লুফে নিতে মাদ্রাসা অধিদপ্তরের চোখে ধূলো দেওয়া নাসির সংবাদে অনুসন্ধানে থাকা মাধ্যমকে ম্যানেজ করতে ব্যর্থ হয়ে এবার ছুটছেন ভিন্ন কৌশলে। লাগামহীন নানান দূর্নীতি- অপকর্মের হোতা, অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় অধ্যক্ষ পদ হাতিয়ে নেয়া কর্ণকাঠী ইজ্জাতুল ইসলাম আলিম মাদ্রাসার বিতর্কিত অধ্যক্ষ মাওঃ নাসির, নিয়োগ জালিয়াতির ঘটনা ধাঁমাচাপা দিতে নানা কৌশল অবলম্বন করছে বলে নিশ্চিত করছে বিশ্বস্ত একটি সূত্র। জানা গেছে, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় দূর্নীতির আশ্রয়ে প্রতিষ্ঠানের এই গুরু দায়িত্বের পদটি টিকিয়ে রাখতে বিভিন্ন মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে আবারও চোঁখ ধোঁয়াশার মিশনে কাজ করছেন এই নাসির। দৈনিক আজকের তালাশ পত্রিকায় প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ নিয়োগে জালিয়াতির তথ্য-প্রমানসহ বিস্তারিত নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদনে ধরাশয়ী হওয়া নাসির ম্যানেজ পক্রিয়ায় আশানুরূপ কোন সুবিধা করতে না পেরে এবার সুইয়ে সুতো লাগানোর মতো নিখুঁত চাটুকতার পথে ধাবিত হচ্ছে দূর্নীতির সাথে যোগসাজেশ থাকা মহলটির ছত্রছায়ায়। মিডিয়া পাড়ায় নিজেদের অবাধ সম্পৃক্ততা থাকার ক্ষমতা রয়েছে বলে হুশিয়ারী করে, নানা মাধ্যমে তদবির করে যাচ্ছেন এই জামায়াত নেতা। প্রতিষ্ঠানের বেশ কিছু নির্ভরযোগ্য সূত্র সংবাদ অনুসন্ধান মাধ্যমকে জানান, সম্প্রতি নির্দিষ্ট তথ্য প্রমানের ভিত্তিতে নিয়োগ প্রক্রিয়ার সংবাদ প্রকাশিত হলে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের উচ্চ পদস্থ এক কর্মকর্তার নাম ভাঙ্গিয়ে বিরূপ প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন অভিযুক্ত জামায়াত নেতা নাসির।

প্রতিষ্ঠানে সেই পদস্থ কর্মকর্তার পরিদর্শন সফর কে পুঁজি করে তিনি সবার মাঝে অপপ্রচার ছড়িয়ে জানান দিচ্ছে, “স্যার আসছে তদন্ত করতে, তদন্তে কোন অনিয়ম পাননি। আমি সঠিক আছি, স্বচ্ছ আছি।” এদিকে তার এমন অপপ্রচারে আবারও হতাশ হয়েছেন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক, কর্মচারী ও সংশ্লিষ্টরা। উল্লেখ্য যে, “বরিশালে মাদ্রাসা অধিদপ্তরকে বৃদ্ধাঙ্গলী দেখিয়ে অধ্যক্ষ হলেন মাও: নাসির!” : দপ্তর ম্যানেজে মোটা অংকের অর্থ বিনিময় : নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি গোপন করে নিজের নামে বেআইনী আবেদন : অনুসন্ধান টিমকে অর্থের প্রলোভন এমন শিরোনামে দৈনিক আজকের তালাশ পত্রিকা সহ বরিশালের বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। দৈনিক আজকের তালাশ পত্রিকায় মাওঃ নাসিরের এমন কর্মকা-ের পরিপেক্ষিতে ধারবাহিক প্রতিবেদন’র ১ম পর্ব থেকেই সংবাদ প্রকাশকে বাঁধাগ্রস্থ করতে বিভিন্ন সময়ে মামলা প্রদান করাসহ নানা হুমকী প্রদান করে অপকর্মের সত্যতা আড়াল করতে নড়েচড়ে বসে মাওঃ নাসির। পাঠকের সুবিধার্থে তুলে ধরা বাহুল্য যে, পটুয়াখালী জেলার জৈনকাছী ধরানদি গ্রামের বাসিন্দা ফজলুল হকের পুত্র সক্রিয় জামায়াত নেতা দুই মামলার আসামী মাও: নাসির নিয়ম বর্হিভুত প্রক্রিয়া ও দপ্তর ম্যানেজে এমন জালিয়াতির কর্মকা- পরিচালনা করেছেন অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে। এর আগে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পদ হাসিল করে নিতেও অতি চতুরতার সাথে ষড়যন্ত্র ও একটি সংক্রিয় প্রভাব বিস্তার করেন তিনি। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানের দুইজন সিনিয়র ইনডেক্স প্রভাষক কে বৃদ্ধা আঙ্গুল দেখিয়ে বিতর্কিত নাসির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্বে বহাল থেকেই নিজেই অধ্যক্ষ পদে আবেদন করেন। এমনকি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মাদ্রাসা অধিদপ্তরের প্রতিনিধি পাওয়ার আবেদনে প্রথম পর্যায়ে প্রার্থীতা গোপন করে ও নির্দিষ্ট তথ্য পূরনের জায়গায় নিজের ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বার দিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপের কার্য পরিচালনা করেন মাও: নাসির। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে আরও জানা যায়, পরবর্তী সময়ে নিয়োগ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিটি সংশ্লিষ্ট দপ্তর ম্যানেজের মাধ্যেমে ওয়েবসাইট থেকে অন্য এক জেলার মাদ্রাসার ওয়েবসাইডে আড়াল করে রাখার মিশনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে এই নাসির। মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের ২০২০ সালের ১৬ জানুয়ারির স্মারক নং- ৫৭.২৫০০০০.০০৩.০১.০৫১.১৮.৪৬ এর একটি প্রতিনিধি মনোনয়ন প্রদান ফরমের ০৮ নং ধারায় সুস্পষ্ট উল্লেখ করা আছে যে, নিয়োগযোগ্য পদ ও কমিটি নিয়ে মামলা থাকলে সংশ্লিষ্ট পদে নিয়োগের সুপারিশ করা যাবে না।

নির্ধারিত এই আদেশনামার ০৯নং ধারায় আরও উল্লেখ আছে, মহাপরিচালক, মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর, ঢাকা-এর প্রতিনিধি হিসাবে উপরিক্ত নির্দেশনাবলী পুঙ্খানুপুঙ্খরুপে প্রতিপালন ব্যতিত বেসরকারি মাদ্রাসায় শিক্ষক/কর্মচারী নিয়োগের সুপারিশ করা হলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০০৬ সালে ১৬ জুন তারিখের নং শা:৪/মামলা/৮/২৩৩/২০০৬/১৯৯১ পরিপত্র মোতাবেক মনোনীত প্রতিনিধির বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এদিকে শুধু অধ্যক্ষ পদ নয়। বিভিন্ন সময়ে প্রতিষ্ঠান থেকে স্বার্থ হাসিল করা, মাদ্রাসার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ফান্ড থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়া, প্রভাবশালী মহলের আধিপত্য বিস্তারসহ নানা অপকর্মের গুরুত্বর অভিযোগ রয়েছে মাও: নাসিরের বিরুদ্ধে। মাদ্রাসার এক মহিলা শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক  ঘটনা সৃষ্টি করার মিশনে তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে রয়েছে অভিযোগ। তার এমন অপকর্মের সত্যতা এবং জালিয়াতির মাধ্যমে অধ্যক্ষ পদ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগের বিষয়ে দৈনিক আজকের তালাশ এর অনুসন্ধান মাধ্যম মাদ্রাসায় উপস্থিত হলে  নিয়োগ প্রক্রিয়ার জালিয়াতির বিষয়ে কোন প্রশ্নের সদুত্তোর এবং বৈধ কাগজপত্র দেখাতে সক্ষম হয়নি তিনি। এসময় তিনি নিজের যোগ্যতা কে প্রমান করতে মৌখিক ভাবে নানান কৌশল অবলম্বন করেন। এক পর্যায়ে -বিষয়টি চেপে যান, আমরা আমরাই তো। আপনাদের ব্যাপারটা আমি দেখতাছি, আসছেন তৈল খরচ নিয়ে যান বাকিটা রাতে দেখছি বলে- অনুসন্ধান মাধ্যমকে অর্থ প্রদানে ব্যস্ত হয়ে পড়েন চাটুকার এই জালিয়াতির মূলহোতা। এ সময় টাকা নিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি বলেন, আপনি না নিলেও আপনাদের সাংবাদিক মহলের অনেকেই আমি চিনি, আপনাদের সিনিয়রদের সাথে আমার ওঠা বসা। নিউজ মোকাবেলার সিস্টেম আমার জানা আছে। তার এমন অবৈধ আতাত করার অপচেষ্টা নিয়ে বরিশালের স্থানীয় শীর্ষ পর্যায়ের পত্রিকায় শিরোনাম হলে সর্বশেষ ভিন্ন নকশা বাস্তবায়নে নিয়োগের স্বচ্ছতাকে নীল রেখায় অবস্থান করিয়ে বেসামাল হয়ে উঠেছেন নাসির সহ অপকর্মে জড়িত থাকা মহলটি।

তাই টেকনিক্যাল ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের যুগ্ম সচিব মোঃ মনজুর রহমান ভুইয়ার মাদ্ধসঢ়;রাসা পরিদর্শন কে ভিন্নভাবে প্রভাবিত করে নিজেকে বৈধ বানাতে চোঁখ ধোঁয়াশার আশ্রয় নিয়েছেন নাসির। নিয়োগ প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে তদন্তে আসার বিষয়ে কথা বলতে চাইলে মোঃ মনজুর রহমান ভুইয়ার নাম সম্বলিত একটি ভিজিটিং কার্ডে দেয়া ০১৭১৮-৭০০…মুঠোফোন নাম্বারে কল দেয়া হয় (ওয়েবসাইডে কর্মকর্তাদের পরিচিতি তথ্যের নাম্বারের সাথে মিল রয়েছে)। এসময় সংবাদের সুবিধার্থে দৈনিক আজকের তালাশ পত্রিকার পত্রিকার পরিচয় দেয়া হলে বিপরীত পাশ থেকে জানানো হয় এই নামের কেউ এখানে থাকে না। প্রতিত্তোরে অপরপাশে থাকা ব্যক্তির কাছে জানতে চাওয়া হয় সে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের কোন দায়িত্বে রয়েছে কিনা? সে সময় তিনি এই বিভাগের কেউ নয় বলেও দাবি করেন। অন্যদিকে ধারাবাহিক এই প্রতিবেদনের সূত্র ধরে প্রথম পর্যায়ে যোগাযোগ করা হয়েছিল মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সফিউদ্দিন আহমদ এর সাথে। তৎকালিন সময়ে দৈনিক আজকের তালাশ কে নিশ্চিত করে তিনি বলেন। “অস্বচ্ছ পক্রিয়াকে কোনভাবে জায়গা দেয়া হবেনা। মাওঃ নাসিরের এমন জালিয়াতির বিষয়ে তাকে অবহিত করলে তিনি বলেন, অবশ্যই এর তদন্ত করা হবে। পাশাপাশি এমন কর্মকা-ের জন্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এসময় তিনি আরো জানান, শীঘ্রই বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে এর তদন্ত পরিচালনা করা হবে।

উল্লেখ্য যে, প্রতিষ্ঠানে এমন জালিয়াতির ঘটনার বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে এমনটা বুঝতে পেরে প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের এক দাতা সদস্য বিষয়টি নিয়োগ প্রক্রিয়ার আগেই সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে লিখিত ভাবে এক অভিযোগ ও ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য আবেদন করেন। তার এমন আবেদনের পরে নাসিরের অধ্যক্ষ পদ হাতিয়ে নেয়ার বিষয়ে হতাশ হয়েছেন প্রতিষ্ঠানের সর্ব সকল। (মাওঃ নাসিরের জালিয়াতি ও নানা অপকর্মের বিস্তারিত তথ্যবহুল ধারবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে দৈনিক আজকের তালাশের পরবর্তী পর্বে। অনুসন্ধানী এই প্রতিবেদনে অন্তরালের সংবাদ জানতে নিয়মিত চোঁখ রাখুন পত্রিকার পাতায়)।


আপনার মন্তব্য

error: Content is protected !!