ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২০ ইং

শিরোনাম
প্রকাশ : জুলাই ৮, ২০২০

থানায় তথ্য সংগ্রহ করতে যাওয়ায় বরিশালে চিত্র সাংবাদিককে এসআই মামুনের হুংকার!

অনলাইন ডেস্ক

তালাশ প্রতিবেদক॥

তোর কি এখানে? প্রশ্নটা বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার এসআই মামুনের। তথ্য সংগ্রহ করতে যাওয়া সংবাদকর্মীকে এভাবে হুংকার তুললেন তিনি। শাসিয়ে দিয়ে থানা থেকে চলে যাওয়ার কথা বলতেও ভুল হয়নি তার। গতকাল এমন অ-সৌজন্যমূলক কার্যকলাপের সৃষ্টি করলেন নানান সময় বিতর্কিত এই পদস্থ কর্মকর্তা। সারাবিশ্ব আজ করোনা নামক মহামারিতে থমকে আছে। করেনার এমন পরিস্থিতিতে যখন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ নানান সুনামের চূড়ান্ত রেখায় অবস্থান করছে, ঠিক মূহুর্তে একজন পুলিশ কর্মকর্তার এমন আচরণে কিছুটা হতভম্ব বিচার পেতে আসা সাধারণ জনগণ। এই মহামারিতে যারা সব থেকে বেশি কাজ করছে, তারা হলো ডাক্তার, পুলিশ, সাংবাদিক। পুলিশের বিগত সময় অনেক অপবাদ থাকলেও বর্তমানে মানুষের চোখে আস্থার পরশমনি তারা। এমন ধারাবাহিকতায় বরিশালের বর্তমান পুলিশ কমিশনার শাহাবুদ্দিন খান বিপিএম-বার দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই বরিশালে পুলিশের সেই সুনামের ইমেজ ফিরে আসতে শুরু করছে। তিনি বরিশালের মানুষের ১০০% সেবা নিশ্চিত করতে চাইলেও কিছু অসৎ পুলিশ অফিসারের কারনে তার এ চিন্তাধারা পিছিয়ে যাচ্ছে। তেমনি এক অসৎ পুলিশ অফিসার কোতোয়ালী মডেল থানার এসআই ফিরোজ আল মামুন।

 

সূত্রে জানায়, গত সোমবার নগরীর রূপাতলী ২৫ নং ওয়ার্ডের গ্যাষ্টার বাইন এলাকায় মৃত ব্যক্তির জানাজায় উপস্থিত না হওয়া কে কেন্দ্র করে স্থানীয় চিহিৃত সন্ত্রাসীদের হামলায় গুরুত্বর জখম হয় একই এলাকার বাসিন্দা সুমন খান। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত ও তথ্যসূত্রে জানা যায়, দেশীয় অস্ত্র দিয়ে সুমনের মাথায় আঘাত করে ও মহিলা সহ অনেকের শ্লিলতাহানি করার ঘটনার জন্ম দেয় সন্ত্রাসী বাহিনী। যা নিয়ে বরিশালের বিভিন্ন গণমাধ্যম সংবাদ প্রকাশ করে। পাশাপাশি বর্তমান সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে এমন জঘন্য কর্মকা-ের জন্য তুমুল আলোচনার ঝড়ও ওঠে। বর্তমানে আহত সুমন হাসাপালের শয্যায় কাতরাচ্ছেন। আহতের পরিবারের সদস্যরা এমন সন্ত্রাসী কর্মকা-ের সঠিক বিচারের আশায় শরাণাপন্ন হন থানা পুলিশের কাছে। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য আইনী প্রক্রিয়ায় আসতে মামলা দায়েরের জন্য থানার দারস্ত হন তারা।

 

এ সময় বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ নুরল ইসলাম ঘটনার সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে বিচারের আশ্বাস দিয়ে মামলা আমলে নেয়ার জন্য বলে এবং ঘটনাটি সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের সীমানায় দাড় করানোর দায়িত্ব দেন এসআই মামুনের কাছে। কিন্তু ওসির নির্দেশ কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে থানায় উপস্থিত এসআই মামুন মামলা না হওয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের গড়িমসি করেন। আহতের স্বজনদের পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে ঘটনার বিবরণী উল্লেখ করে কোতয়ালী থানার কম্পিউটার বিভাগের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি লিখিত ভাবে উপস্থাপন করা হলেও এসআই মামুন জানান- ভিতরে লেখায় অনেক ভুল আছে, আগে ঠিক করতে হবে, তারপর দেখা যাবে মামলা হবে কিনা। এদিকে সংবাদ সংগ্রহের জন্য ঘটনার শুরু থেকে দৈকিন আজকের তালাশের আলোকচিত্রি সংবাদকর্মী অপুর্ব এ ঘটনার সর্বশেষ তথ্য জানতে থানায় জান। এতেই জল পরে এসআই মামুনের মামলা না হওয়ার তদবির বাণিজ্যে।

 

একটি বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সাথে জড়িত সন্ত্রাসীদের সাথে এক মিশনে নামে এসআই মামুন। পরিকল্পিত মিশন বাস্তবায়নে হিমশিম খেয়ে মিডিয়া পাড়ায় জানাজানির ঘটনায় ক্ষিপ্ত এসআই মামুন। এক পর্যায়ে গতকাল সংবাদকর্মী অপূর্বের এক প্রশ্নের কোন উত্তর না দিয়ে, উল্টো প্রশ্ন তুলে হুংকার ছুড়ে দেন এই কর্মকর্তা। এদিকে বিশ্বস্ত একটি সূত্রে আরো জানা যায়, হত্যার উদ্দেশ্যে হামলাকারী নেতৃত্বে থাকা সুমন মুন্সির কাছ থেকে বিপুল পরিমান অর্থের দেন-দরবার হয় এসআই মামুনের। যেই চুক্তিতে প্রথম পর্যায়ে থানা পুলিশ কে ম্যানেজ পক্রিয়ার মিশন কে বাস্তবায়িত করতে নীল নকশা আঁকে এসআই মামুন। এদিকে সংবাদকর্মীর তথ্য সংগ্রহে সহযোগীতা না করে এমন অসাদাচরন করে কথা বলার বিষয়ে (মুঠোফোনে আলাপের রেকর্ড ক্লিপ) নিশ্চিত হয়ে দৈনিক আজকের তালাশের সাথে কথা হয় এসআই মামুনের। এসময় এমন সত্যতা সম্পূর্ণ অস্বিকার করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

 

এ বিষয়ে বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ নুরুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয় নি।

 

এদিকে এসআই ফিরোজ আল মামুনের নামে এর আগেও বিভিন্ন সময়ে বিতর্কিত কর্মকান্ডের নানান ফিরিস্তি নিয়ে বিস্তারিত সংবাদ দেখতে চোখ রাখুন আজকের তালাশ পত্রিকার পাতায়।

 


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর