ঢাকা, রবিবার, ৬ই ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম
প্রকাশ : অক্টোবর ২১, ২০২০

পূর্ব দপদপিয়ায় আদালতের আদেশ অমান্য করে ভবন নির্মাণ !

অনলাইন ডেস্ক

থানা পুলিশের নিরবতায় প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা
তালাশ প্রতিবেদক ॥ আদালতের আদেশ অমান্য করে মামলাধীন তফসিলভুক্ত সম্পত্তিতে পাঁকা ভবন নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে ঝালকাঠী জেলার নলছিটি থানার পূর্ব দপদপিয়া এলাকায়। জোড়পূর্বক ভবন নির্মান ও বালি ভরাটের অভিযোগ তুলে ঝালকাঠি বিজ্ঞ অতিঃ জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়। যার মামলা নং এম.পি ৩০৩/২০২০ (নলছিটি)। চলমান মামলার পরবর্তী তারিখ অবধি সম্পত্তিতে স্থিতি অবস্থা ও শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য আদালত আদেশ প্রদান করলেও প্রশাসনের সু-দৃষ্টি না থাকায় নিয়মিত চলমান রয়েছে এই ভবন নির্মাণের কাজ। আদালতের নির্দেশনাকে কর্ণপাত না করে ভবন নির্মাণ কাজ চলমান থাকায় প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে প্রশাসনের ভূমিকা। আদালতের এই আদেশ প্রতিপালনে থানা পুলিশের গড়িমসি মনোভাবে কোন আইনী সুফল না পাওয়ায় হতাশ মামলার বাদী ও পরিবারের সদস্যরা। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত, মামলা সূত্র ও তথ্য অনুসন্ধানে সরেজমিন পরিদর্শন করে জানা যায়, পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ম অনুযায়ী ওয়ারিশগণের মাঝে বণ্ঠন না হওয়ার জটিলতায় দীর্ঘদিন যাবৎ বিরোধ চলে আসছিল মৃত: সেকান্দার আলী বখতিয়ার এর পুত্র মোঃ গিয়াস উদ্দিন ও মেয়ে মোসাঃ খাদিজা বেগম’র পরিবারের সদস্যের সাথে। মেয়ে খাদিজা বেগম’র দাবিকৃত জমি বিধিমোতাবেক না হওয়ায় ভাইদের সাথে এ নিয়ে বিরোধ বলে জানা যায়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধির কাছে এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে পারিবারিকভাবে মিমাংসার জন্য বসা হলেও নিজের অযৌক্তিত দাবিতে অনঢ় থেকে নির্ধারিত সম্পতির সবটুকু দাবি করে জমি বালু দিয়ে ভরাট ও পাঁকা ভবন নির্মাণের পায়তারা করে খাদিজা বেগম ও তার পরিবারের সদস্যরা। এসময় উপায় না পেয়ে আইনের দারস্ত হয়ে খাদিজা বেগম কে ১নং বিবাদীসহ মোসাঃ চম্পা বেগম, মোঃ রেজাউল সরদার মামুন, মোঃ জালাল মাতুব্বর কে বিবাদী করে ঝালকাঠি বিজ্ঞ অতিঃ জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে নির্ধারিত সম্পত্তিতে স্থিতি অবস্থা এবং শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার আদেশ জারি করে নলছিটি থানার অফিসার ইনচার্জকে দায়িত্ব পালনে নির্দেশ প্রদান করে। এদিকে আদলতের এই আদেশ উপেক্ষা করে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের বিস্তার ও থানা পুলিশের অদৃশ্য নিরব ভূমিকার অন্তরালে নিয়মিত ভবন নির্মাণ কাজ অব্যহত রাখে খাদিজা বেগম ও তার পরিবারের সদস্যরা। এ বিষয়ে থানা পুলিশের কাছে বাদী পক্ষ থেকে আইনী সহযোগীতা পাওয়ার প্রত্যাশায় বারং বার অবহিত করলেও নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার জন্য সঠিক কোন পদক্ষেপ গ্রহন হয়নি বলে দাবী করেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। সর্বশেষ আদলতের আদেশ অমান্য করে মামলাধীন সম্পত্তিতে জোড়পূর্বক পাঁকা কাজ চলমান রয়েছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে সরেজমিন পরিদর্শনে যায় সংবাদকর্মীরা। ঘটনাস্থলে সংবাদকর্র্মীদের উপস্থিতিতে আদেশ উপেক্ষা করার বিষয়ে জানতে চাইলে খাদিজা বেগম জানায়, “আদালত আবার কি? আমার বাবার জমিতে আমি ঘর বানাই, তাতে যা হবার হবে। আপনাগো সাংবাদিকরা যা করার করতে পারেন করেন”। এসময় আদালতের জারিকৃত আদেশ সম্পর্কে তার সাথে কথা বলতে চাইলে, ক্ষিপ্ত হয়ে যান তিনি। পরবর্তীতে সংবাদকর্মীদের বিভিন্নভাবে বিভ্রান্তিমূলক কথাবার্তা বলে কাজ পুনরায় শুরু করান খাদিজা বেগম। আদালতের আদেশ প্রতিপালন ও থানা পুলিশের পদক্ষেপ’র বিষয়ে জানতে চাইলে, নলছিটি থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত এসএসআই মোঃ কাজী ইউসুফ এর সাথে যোগাযোগ করতে চেষ্টা করে সংবাদকর্মীরা। এসময় তাকে একাধিকবার মুঠোফোনে কল দেয়া হলেও তা রিসিভ হয়নি। অবশ্য ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি ভবন নির্মান চলমান থাকায় নলছিটি থানার অফিসার ইনচার্জ কে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। তিনি আদালত আদেশ প্রতিপালনে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য তাদের কে আশ্বাস প্রদান করেন। এদিকে এমন আশ্বাসের পরেও আদালতের আদেশ অবমননা করে খাদিজা বেগম ও তার পরিবারের সদস্যরা শ্রমিক দিয়ে ভবন নির্মাণ চলমান রাখলে পুনরায় থানা পুলিশের সাথে যোগাযোগ করেও কোন সুফল পাচ্ছেনা বাদী গিয়াস উদ্দিন। সর্বশেষ তিনি আইনের সঠিক বিচারের আশায় আদালতের কাছে আদেশ উপেক্ষার বিষয়ে পরবর্তী আদালতে আবেদন প্রক্রিয়া চলমান রেখেছেন বলে জানা যায়। স্থানীয় চেয়ারম্যান মোঃ বাবুল মৃধা’র সাথে এই জটিলতার বিষয়ে আলাপকালে তিনি বলেন, “জমিজমা নিয়ে ভাই-বোনদের মাঝে এই বিরোধ চলে আসছে, এ নিয়ে আদালতে মামলা হয়েছে। আদালত বিচারকার্য পরিচালনা করে থানা পুলিশকে নির্দেশনা দিবেন। তারা সেই মোতাবেক কাজ করবেন”। এদিকে আদালতের আদেশ অমান্য করে নির্মাণ কাজ চলমান রেখে দখলবাজদের নানা হুমকীতে নিরুপায় সময় পার করছে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। তারা অচিরেরই এ বিষয়ে প্রশাসনের ঊধ্বর্তন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর
error: Content is protected !!