Uncategorized

প্রিয় নেত্রীকে বাঁচাতে জীবন উৎসর্গ করেন বরিশালে সেন্টু

  প্রতিনিধি ২১ আগস্ট ২০১৯ , ৮:২৮:৪২ প্রিন্ট সংস্করণ

 

২০০৪ সালে আজকের দিনে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস বিরোধী সমাবেশে দলের সভাপতি (বর্তমান প্রধানমন্ত্রী) শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে নৃশংস ও বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলা কেড়ে নিয়েছিল ২৪ নেতাকর্মীর প্রাণ।

তাদেরই একজন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক বরিশালের মুলাদী উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের রামারপোল গ্রামের বাসিন্দা মোস্তাক আহমেদ সেন্টু।

আকস্মিকভাবে গ্রেনেড হামলা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মঞ্চের সামনে দর্শক সারিতে বসা সেন্টু প্রিয় নেত্রীকে (শেখ হাসিনা) রক্ষা করতে একলাফে মঞ্চে উঠে অন্যদের নিয়ে নেত্রীকে জড়িয়ে থাকেন। ফলে গ্রেনেডের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত সেন্টু মারা যান।

এখনও বিচার পাওয়ার আশায় স্বজন হারানোর দুঃসহ স্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছেন নিহত সেন্টুর পরিবার। তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে আর্থিক সহযোগিতা চান না, তারা নিহতের পরিবারকে সঠিক মূল্যায়নের পাশাপাশি নৃশংস ওই হামলায় জড়িত সকল অপরাধীর দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি করেছেন।

চার বছর বয়সে বাবাকে হারানো সেন্টুর একমাত্র কন্যা আফসানার কাছে তার বাবার কথা জানতে চাওয়া খুব সহজ ছিল না, তারপরেও যা পাওয়া গেল তা শুধুই চোখের জল।

২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় নিহত বাবার স্নেহ-ভালবাসা ছাড়া বড় হয়ে ওঠা আফসানাকে নিয়েই এখন সেন্টুর স্ত্রী আইরিন সুলতানা বেবির জীবন।

বিবাহ বার্ষিকীর একদিন আগে স্বামীকে হারানো বেবির স্মৃতিতে আজো সব কিছুই দগদগে।

সেন্টুর স্ত্রী আইরিন সুলতানা বেবি বলেন, আমাদের তো কিছুই চাওয়ার নেই। আপা (শেখ হাসিনা) যদি বছরে একবার হলেও বলেন, তোমাদের কোন চিন্তা নেই, আমি তোমাদের পাশে আছি। এতোটুকু সান্তনাই আমাদের জন্য যথেষ্ট।

এর বেশি আর আমাদের কিছুই চাওয়ার নেই।

পাশাপাশি দুঃসহ স্মৃতি বয়ে বেড়ানো সেন্টুর পরিবারের সদস্যরা চান নৃশংস ওই হামলায় জড়িত অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করা । তারা মনে করেন, এতে ফিরে পাওয়া যাবে না তাদের হারানো স্বজনকে কিন্তু এ ধরনের নৃশংস হামলার পুনরাবৃত্তি ঠেকানো সম্ভব হবে।