ঢাকা, রবিবার, ১৬ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম
প্রকাশ : মে ১, ২০২১

বরিশালে খেয়া ইজারাদারদের কাছে জিম্মি লাখ লাখ যাত্রী!

অনলাইন ডেস্ক

মজিবর রহমান নাহিদ :- বরিশাল জেলার বিভিন্ন খেয়াঘাটে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ নতুন নয়। এসব ঘাটে ভাড়ার তালিকা প্রদর্শনের নির্দেশনা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। ঘাটভেদে যাত্রী পারাপারে ভাড়া ২-৬ টাকা হলেও ইজারাদার দ্বিগুণের বেশি টাকা আদায় করছেন। জেলা পরিষদের কাছে অভিযোগ করেও প্রতিকার পাচ্ছেন না ভুক্তভোগী এসব সাধারণ যাত্রীরা।

জেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, এই জেলার ২৩টি ঘাট ইজারা দেওয়া হয়েছে। ইজারার শর্ত থেকে জানা যায়, যাত্রী পারাপারে ভাড়া দুই টাকা থেকে সর্বোচ্চ ছয় টাকা। সাইকেলসহ যাত্রী ভাড়া চার টাকা থেকে সাত টাকা। মোটরসাইকেলসহ যাত্রী ভাড়া আট টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১৬ টাকা। শিক্ষার্থীরা বিনা ভাড়ায় পার হতে পারবে। পাঁচ বছরের নিচে শিশু এবং প্রতিবন্ধীরা টোলের আওতামুক্ত। এ ছাড়া একজন যাত্রী ১৫ কেজি পর্যন্ত মাল বিনা ভাড়ায় বহন করতে পারবেন।

গত কয়েক মাস বিভিন্ন ঘাট ঘুরে দেখা যায়, জেলার কোনো ঘাটেই ভাড়ার তালিকা টানানো নেই। সব ঘাটেই বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। বাবুগঞ্জ উপজেলার মীরগঞ্জ-মুলাদী খেয়াঘাটে যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে ২০ টাকা, মোটরসাইকেলসহ যাত্রী ৮০ টাকা। বাকেরগঞ্জ উপজেলার শিয়ালঘুনি খেয়াঘাটে যাত্রী ১০ টাকা এবং মোটরসাইকেলসহ যাত্রী পারাপারে ৫০ টাকা, বাকেরগঞ্জের সতরাজ খেয়াঘাটে যাত্রী ১০ এবং মোটরসাইকেল ৫০ টাকা। সদর উপজেলার বেলতলা খেয়াঘাটে মোটরসাইকেলসহ যাত্রী ৪০ টাকা। যাত্রীদের কাছ থেকে ১০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। অন্য ঘাটগুলোরও প্রায় একই অবস্থা।

মুলাদী উপজেলার বাসিন্দা কামাল হোসেন বলেন, মীরগঞ্জ খেয়ায় শিশুদের কাছ থেকেও আদায় করা হচ্ছে ভাড়া। যাত্রীপ্রতি ২০ টাকা এবং মোটরসাইকেলের জন্য ৮০ টাকা দিতে হয়। ইজারাদারের ট্রলার আরাল করে রিজাফের নামে হাতিয়ে নেয় ডাবল অর্থ ।

বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী ফাইজুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ‘১০ টাকাই দিতে হয়েছে। নাহয় পেতে হয় খারাপ ব্যাবহার।’

স্থানীয় বাসিন্দা সেলিম জানান, মীরগঞ্জ ঘাটে ইজারাদারের ট্রলার আছে মাত্র দুটি। পর্যাপ্ত ট্রলার না দিয়ে ফায়দা লুটছে অন্য ট্রলার দিয়ে।

একটি ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি মো. কামালউদ্দিন বলেন, ঘাটে এসে ইজারাদারের ট্রলার পাইনি। বাধ্য হয়ে অন্য ট্রলারে উঠতে হয়েছে। ৪০ টাকা ভাড়া দিতে হয়েছে। ১০ কেজি ওজনের ওষুধের কার্টনের জন্য খরচ হয়েছে ১০০ টাকা।

মীরগঞ্জ ঘাটে ইজারাদারের পক্ষে টাকা উত্তোলন করা এক ব্যাক্তি বলেন, ‘ইজারাদারের ট্রলার ছাড়া অন্য ট্রলারে উঠলে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয়।’

ট্রলারচালক হেমায়েত উদ্দিন বলেন, ‘ইজারাদারের ট্রলার আছে দুটি। এর বাইরে ৩৫টি ট্রলার চলাচল করে। আমরা যাত্রীদের কাছ থেকে ১০ টাকা এবং মোটরসাইকেল বাবদ ৩০ টাকা নিই। যেহেতু ঘাটের টাকা আগেই দেওয়া হয়, তাই ট্রলার চলাচলে বাধা দেওয়া হচ্ছে না।’

এ ব্যাপারে বরিশাল জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ‘বরিশালের অধিকাংশ খেয়াঘাটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ আছে। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা মীরগঞ্জ খেয়াঘাটের। ঘাটে তালিকা রাখার কথা থাকলেও উন্মুক্ত স্থানে কেউ তা রাখছে না। ফলে যাত্রীরা প্রতারিত হচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সতর্ক করা হয়েছে।’ এছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা।


আপনার মন্তব্য

error: Content is protected !!