ঢাকা, শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২০ ইং

শিরোনাম
প্রকাশ : অক্টোবর ৫, ২০২০

ভান্ডারিয়ার দুলালীর হত্যা মামলাগুলোর স্পর্শকাতর স্থানে জালিয়াতিপূর্বক আদালতে পুলিশের চার্জশিট!

অনলাইন ডেস্ক

প্রেস বিজ্ঞপ্তি ॥ দুলালী খাতুনের ভিসেরা রিপোর্ট নং ২৫৫৭৩বি হলেও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা একই ঘটনার অনুকূলে দায়েরকৃত পৃথক তিনটি মামলায় দুলালীর স্থানে সুমনা খাতুনের ভিসেরা রিপোর্ট নং ২৯২৯৪বি দিয়ে স্ত্রী হত্যায় অভিযুক্ত বশিরউজ্জামান রাজু কে দোষি সাব্যস্ত করে জালিয়াতিপূর্বক আদালতে চার্জশিট প্রেরণ করেছে ঝালকাঠির কাঠালিয়া থানার এসআই মোঃ মাহমমুদুর রহমান। থানা ও আদালতে দায়েরকৃত তিনটি মামলার আগে এবং পরে দফায় দফায় বাদীর তিন জন স্বজন অভিযুক্ত রাজু’র কাছে সমঝোতা বাবদ ৩০ লাখ টাকা দাবী করেছে। এমন অভিযোগ নিয়ে বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটি (বিআরইউ) কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলার বলতলা গ্রামের আ. লতিফ হাওলাদারের ছেলে বশিরউজ্জামান রাজু। ৫ অক্টেবর সোমবার বেলা ১২টায় বিআরইউ কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

লিখিত বক্তব্যে রাজু বলেন, গত ২৮/০১/২০১৯ইং তারিখ দিবাগত রাতে তার স্ত্রী দুলালী খাতুন স্বামীর বসতঘরে হঠাৎ অসুস্থ হলে তাকে ভান্ডারিয়া থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাবার পর কর্মরত চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। দুলালীর মৃত দেহ ভান্ডারিয়া থানার অর্ন্তভূক্ত তার বাবার বাড়ি ‘চরআইল’ গ্রামে নেয়া হয়। খবর শুনে তার ভাই-বোনেরা তাদের নিজ বাড়িতে আসে। তারা লাশের ময়নাতদন্ত করবে এমন প্রশ্ন তুললে ভান্ডারিয়া থানা পুলিশ দুলালীর মৃত দেহের প্রাথমিক সুরতহাল রিপোর্ট কার্যক্রম সম্পন্ন করে। এবং একইসাথে ময়নাতদন্তের অনুকূলে ভান্ডারিয়া থানার এসআই দেলোয়ার হোসেন একটি সাধারণ ডাইরী অর্ন্তভুক্ত করেন। যার নং ১১৯২। তারিখ ২৯/০১/২০১৯ইং। আবার একই ২৯/০১/২০১৯ইং তারিখ বিকেলে ভান্ডারিয়া থানা পুলিশ রাজুকে তার শ্বশুর বাড়ি থেকে কাঠালিয়া থানা পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পরদিন ৩০/০১/২০১৯ইং তারিখ সকালে রাজু থানায় বন্দি থাকা অবস্থায় তার শ্যালক শহিদুল ইসলামের স্ত্রীর বড় ভাই নজরুল ইসলাম তাকে সমঝোতার প্রস্তাব দিয়ে বলে ৩০ লাখ টাকা শহিদুলকে দিলে সে কোন মামলা করবে না। রাজু রাজি হয়নি। পরে ৩০/০১/২০১৯ইং তারিখ রাতেই শহিদুল কাঠালিয়া থানায় রাজুর বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। যার জি.আর নং ১১/১৯। ওইদিন রাতে কাঠালিয়া থানার ওসি এনামুল হক অভিযুক্ত রাজুকে বেদম মারধর করে এবং ক্রসফায়ার দেয়ার হুমকি দেয়। ৩১/০১/২০১৯ইং তারিখে রাজুকে থানা থেকে আদালতে প্রেরণ করা হয়। সে একটানা ৪ মাস জেল হাজতে ছিল। হাজতে থাকাবস্থায় মৃত দুলালীর বোন নাসরিন বেগম বাদী হয়ে একই ঘটনার অনুকূলে আদালতে বশিরউজ্জামান রাজু’র বিরুদ্ধে আরো ২ টি হত্যা মামলা দায়ের করে। উপরোক্ত তিনটি মামলারই তদন্তকারী কর্মকর্তা হলেন ঝালকাঠির কাঠালিয়া থানার এসআই মোঃ মাহমমুদুর রহমান।

ঢাকা মহাখালি থেকে গত ২১/০৮/২০১৯ইং তারিখে পিরোজপুর জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে দুলালী খাতুনের ভিসেরা রিপোর্ট আসে। যার নং ২৫৫৭৩বি। দুলালীর মৃত দেহের ময়নাতদন্তের অনুকূলে ভান্ডারিয়া থানার এসআই দেলোয়ার হোসেন গত ২৯/০১/২০১৯ইং তারিখে তার দায়েরকৃত সাধারণ ডাইরীর (নং ১১৯২) অনুকূলে তিনি পিরোজপুর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গত ২৫/০৮/২০১৯ইং তারিখে মৃত দুলালী খাতুনের ভিসেরা রিপোর্ট (নং ২৫৫৭৩বি) সহ চুড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। ভিসেরা রিপোর্টে দুলালীর মৃত দেহে বিষের কোন আলামত পাওয়া যায়নি। দুলালীর মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, নিন্ম রক্ত চাপের কারণে মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে, একই ঘটনার অনুকূলে বশিরউজ্জামান রাজুর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত তিনটি হত্যা মামলায় দুলালীর ভিসেরা রিপোর্টের নম্বরের স্থানে পিরোজপুর সদর থানার মামলা নং ১৭/১৯, তারিখ ১৪/০৬/১৯ইং ভিকটিম সুমনা খাতুন (১৫) এর ভিসেরা রিপোর্ট (নং ২৯২৯৪বি) দিয়ে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে ওই তিনটি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কাঠালিয়া থানার এসআই মোঃ মাহমমুদুর রহমান। অথচ দুই ভিসেরা রিপোর্টে দুই রকম তথ্য। হত্যা মামলার স্পর্শকাতর স্থানে অর্থাৎ অন্যের ভিসেরা রিপোর্ট দিয়ে আদালতে জালিয়াতিপূর্বক পরপর তিনটি মামলার চার্জশিটে একই ভিসেরা রিপোর্ট প্রেরণ করে এসআই মোঃ মাহমমুদুর রহমান।

রাজু জেল হাজতে থাকাবস্থায় মৃত দুলালীর বোন নাসরিন বেগম বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে গত ০৪/০২/২০১৯ইং তারিখে ঝালকাঠি সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা (সিআর নং ১৮/১৯) এবং ২৪/০২/২০১৯ইং তারিখে ঝালকাঠি নারী শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল-১ আরো একটি মামলা (সিআর নং ২১/১৯) দায়ের করা হয়। বর্তমানে একটি মামলা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্তে রয়েছে। এ দু’মামলায়ও দু’রকম অভিযোগ দেয়া হয়। একটিতে শ^াসরোধ এবং অপরটিতে বিষ দিয়ে দুলালীকে হত্যা করা হয় বলে উল্লেখ করা হয়। এরমধ্যে একটি মামলায় রাজুর ছোট ২ ভাইকে অভিযুক্ত করা হয়। যারা ঘটনাস্থলেই ছিল না বলে রাজুর দাবী।

জেলে থাকা অবস্থায় রাজুকে দেখতে যায়, শহিদুলের ভাই শাহআলম এর স্ত্রী শাহিনুর আক্তার ডালিম এবং শহিদুলের স্ত্রীর বড় বোন ফরিদা বেগম। দু’জনই তাকে প্রস্তাব দেয় ৩০ লাখ টাকা শহিদুলকে দিলে সব মামলা বাদীরা উঠিয়ে নিবে। প্রস্তাবে রাজি হয়নি রাজু। এরপর শহিদুলের স্ত্রী মাহমুদা রাজুর বাবা আ. লতিফ হাওলাদারের মোবাইলে ফোন দিয়ে বলে, টাকা ছাড়া মামলা উঠবে না। তবে ৩০ লাখ না দিতে পারলে ২০ লাখ টাকা দিয়ে উঠে যান। যার প্রমাণস্বরুপ রাজুর কাছে মোবাইল কল রেকর্ড রয়েছে বলে জানান। সর্বশেষ ৪ মাস পর রাজু জেল থেকে বের হলে লোক মারফত বাদী শহিদুল কে প্রশ্ন করে সে (শহিদুল) কি চায় ? তার জবাবে রাজু জানতে পারে পূর্বের ওই প্রস্তাবে রাজি হলেই আপস মীমাংসা করবে শহিদুল। রাজি না হলে আরো হয়রানি করবে। তখন রাজু লোকমারফত শহিদুলকে জানিয়েছেন যদি সকল দাবী মানা হয়, তারপরও প্রশ্ন থাকে বিনা অপরাধে তাকে জেলে পাঠানো এবং বিনা কারণে তার স্ত্রীর লাশ কেন কাটা হল? এর শাস্তি কি হবে? শহিদুল জানিয়েছে এটা রাজুর ভাগ্যে ছিল। আলোচনার এই রেকর্ড রাজুর কাছে রয়েছে বলে তিনি সংবাদ সম্মেলনে ব্যক্ত করেন।

রাজু আরো বলেন, গত ১৯/০৬/২০১২ইং তারিখে ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলার বলতলা গ্রামের আ. লতিফ হাওলাদারের ছেলে বশিরউজ্জামান রাজুর সাথে ভান্ডারিয়া উপজেলার চরআইল গ্রামের মৃত. হাতেম আলী হাওলাদারের মেয়ে দুলালী খাতুনের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে কোন সন্তান নেই। রাজু বিদেশ  থাকতেন তখন তার স্ত্রী দুলালী চাকুরী করতেন চট্টগ্রাম ‘ইয়ং অন গ্রুপ’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানে। গত ২০১৯ইং সালের ৮ জানুয়ারী দুলালী বেগম তার বাবার বাড়ি ভান্ডারিয়া চরআইল গ্রামে বেড়াতে যায়। এবং ২৮/০১/২০১৯ইং তারিখ দিবাগত রাতে ওই ঘটনা ঘটে। বিষয়টি রাজু তার স্ত্রীর মেঝো ভাবি শাহিনুর আক্তার ডালিমকে মোবাইল ফোনে জানায়। পরে রাজু ও তার স্ত্রীর বাড়ির লোকজন নিয়ে অসুস্থ দুলালীকে নিয়ে হাসপাতালে যায়।

দায়েরকৃত তিনটি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ঝালকাঠির কাঠালিয়া থানার এসআই মোঃ মাহমমুদুর রহমান কাছে বশিরউজ্জামান রাজুর করা সংবাদ সম্মেলনে দুলালীর ভিসেরা রিপোর্ট সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি প্রাথমিকভাবে ভুলের কথা স্বীকার করেন। যেহুতু তিনি চার্জশিট আদালকে প্রেরণ করেছেন তাই এর বেশি কথা বলতে রাজি নয়।


আপনার মন্তব্য

error: Content is protected !!