ঢাকা, শুক্রবার, ২২শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

শিরোনাম
প্রকাশ : জানুয়ারি ৮, ২০২১

মহিপুরে ভূমি যবরদখলের তান্ডবে আহত-১ 

অনলাইন ডেস্ক

মোঃ হাবিবুল্লাহ খান রাব্বী, মহিপুর প্রতিনিধি ॥
মহিপুর থানা শ্রমিকলীগের সভাপতি কালাম ফরাজী চাঁদাবাজীসহ জমি জোরযবর
দখলের তান্ডব চালিয়ে একজনকে গুরুতর আহত করেছে এমন খবর পাওয়াগেছে। আহত
সৈয়দ আবদুর রহমান দুলাল (৫০)কে কলাপাড়া ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে
চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। গত ২ জানুয়ারী শনিবার বিকাল ৪টার দিকে এ ঘটনা
ঘটে।
৬ জানুয়ারী সকাল ১০টার দিকে আহত ভূমি মালিক সৈয়দ আবদুর রহমান দুলাল
জানান, জে এল ৩৪নং লতাচাপলী মৌজার এস এ ১২০ নং খতিয়ানের ৯৬৪ নং দাগ
হইতে ২০০৯ সালে ১০ শতাংশ জমি সাব কবলা মূলে রেজিঃ করিয়া কোনরকম বসত
ঘর তৈরী কওে বসবাস করছে। কিন্তু মহিপুর থানার ৭নং লতাচাপলী ইউনিয়নের মৎস্য
বন্দর আলীপুর বাজার সংলগ্ন প্রভাশালী ভূমিদস্যু কালাম ফরাজী মাঝে মধ্যে তাদের
জমি বলে দাবী করত। ২০১৭ সালে বসতঘর পাকা স্থাপনা র্ণিমান কাজ শুরু করলে ওই
ভূমি দস্যু কালাম ফরাজী ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করে এবং র্ণিমান কাজ বন্ধ
করে দেয়। নিজেদের জন-জনতা নেই বিধায় ভূমি দস্যু দুই ভাই কালাম ও রফিক
ফরাজীকে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দিয়ে বসত ঘর র্ণিমান করেন।
বর্তমানে ঘরের আরো একটি কক্ষ্য পাকাকরণ ও বাড়ির বাউন্ডারি পাকা র্ণিমান
কাজ শুরু করে। এতে ওই বাহিনী পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে ১৮/২০ জনের একটি সংঙ্গবদ্ধ
চক্র নিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করে ২ লক্ষ্য টাকা চাঁদা দাবী করে। চাঁদা টাকা দিতে
রাজি না হওয়ায় দস্যু বাহিনী অতর্কিত হামলা চালিয়ে রক্তাক্তসহ বাম হাত
পিটিয়ে হাড়ভাঙ্গা যখম করে। তাতেই ক্ষ্যান্ত নয়, স্থাপনা ভাংচুরসহ, তার পকেটে
থাকা নগদ ৫৫ হাজার ২৫০ টাকা, মুঠো ফোন এ-৩১ এ্যান্ডোরেট- মূল্য-২৩ হাজার
৯৯৯ টাকা, স্বামীকে বাচাঁতে স্ত্রী নার্গিস বেগম ছুটে আসলে তার গলার
চেইন (১ ভরি) মূল্য ৭০ হাজার টাকার মালামাল ছিনিয়ে নিয়ে বীরদর্পে চলে যায়।
পূর্বের বসত ভিটা বাকেরগঞ্জ এলাকায় বিধায় মৎস্যবন্দর আলীপুর এলাকায় এতিমের
মতো অসহায় ও দূর্বল পেয়ে দিন দিন পাষান্ডের মতো নির্মম নিষ্ঠুর নির্যাতন
চালিয়ে যাচ্ছে। যেন দেখার কেউ নেই। ফলে চিকিৎসা শেষে গত ৩ জানুয়ারী

মোকাম কলাপাড়া উপজেলা বিজ্ঞ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চিহ্নিত
ভূমিদস্যু ৬ জনের নাম উল্লেখ করে আরো ১৫/২০জন আসামী অজ্ঞাত রেখে মামলা
দায়ের করেন। মামলা নং- সি আর- ১২/২১ইং।
অপর দিকে অভিযুক্ত কালাম ফরাজীর বক্তব্য নিতে তার ব্যাবহারকৃত মুঠোফোনে
একাধিকবার চেষ্টা করলেও নারী কন্ঠে করনা ভাইরাস থেকে বাচঁতে স্বাস্থ্য বিধি
মেনে চলা ও বাহিরে গেলে মাক্স ব্যাবহার করার পরামর্শ দিয়ে দুক্ষিত, পরবর্তীতে
আবারও চেষ্টা করুন, এমন বার্তা শুনতে শুনতে আমাকেও দুঃখ নিয়ে বিদায় নিতে
হলো।
দেশের হাজার হাজার একর জমি ও বসত ভিটা পদ্মানদীর ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে নিঃস্ব হয়
হাজার হাজার পরিবার। কেউ যা কখনো ভাবেনি তাও ঘটেছে, দশ দুয়ারে হাত পেতে
ভিক্ষা-বিত্তি করেও চালাতে হয়েছে জীবন সংসার। ভূমিহীন নির্মূলে সরকার
চালিয়ে যাচ্ছে প্রানপন চেষ্টা। সেখানে সেই সরকারদলীয় নেতাদের নির্দয়া আর
নির্মমতায় মাত্র ১০ শতাংশ জমি ক্রয় করেও বসতঘর ণির্মান করে বসবাস করতে
পারছেনা দুলালের অসহায় দরিদ্র পরিবার। মহিপুর থানা শ্রমিকলীগের সভাপতি কালাম
ফরাজীর এহেন কর্মকান্ডকে আ’লীগ সরকার সাধুবাদ জানাবে নাকি ! সায়েস্তা
করবে ? এমন প্রশ্ন অনেকেরই।
কিন্তু সচেতন মহলের বাকশক্তি এখন পূর্বের মতো নেই। কারণ, জানতে চাইলে ৭০
দশকের প্রবীন ব্যাক্তিটি বলে উঠলো, বাংলাদেশ আ’লীগের সভানেত্রী তথা বর্তমান
সরকার প্রধান সুযোগ্য বঙ্গকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার স্বচ্ছতা ও সুদ্ধি
অভিযান যেদিন থমকে গেছে, সেদিন সচেতন মহলেরও বড়ো বড়ো বাকশক্তি বদলে
গিয়ে নিথর হয়েছে।
আ’লীগ সরকারের সুদ্ধি অভিযান চলমান থাকলে যেমনি বাদ পড়বেনা সরকারী আমলা
তেমনি ফেঁসে যাবে এম পি, মন্ত্রীসহ দলের গুরুত্বপূর্ন পদে অধিষ্ঠিত নেতারা।
ফলে বিপদগ্রস্থ হবে সরকার প্রধান ও দলনেত্রী। এমনটা আন্দাজ করেই, সুদ্ধি
অভিযানের বুদ্ধির উদয় হয়। নেত্রী, নেতাদের দলীয়টান! বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে
কতো টুকু অগ্রসর, না নিজেদের দেখা স্বপ্ন পুরণে ব্যাধিব্যাস্ত্য, পরিপূর্ন
উপলব্দি করেছেন তিঁনি।
করোনা ভাইরাসের মতো মহামারী রোগের আক্রমনে যখন দেশের মানুষের পাশে এম
পি, মন্ত্রীদেরকে নিজেদের তহবিল থেকে যার যার আসন ভিত্তিক খাদ্য সংকট
ঘুচাঁনো বা দুঃখ দুর্দশা লাঘবে এগিয়ে যেতে বলেছিলেন, তখনও আমরা
প্রধানমন্ত্রীর সেই বক্তব্যের বাস্তবায়ন দেখতে পাইনি, নেতাদের মাঝে। মুষ্টিময়
১০/২০ পরিবারকে কেউ কেউ ২/৩দিনের সামান্য খাবার দিয়ে পত্র-পত্রিকায় এবং

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ছবি পোস্ট দেখেছে। সে রেকর্ড
আজও বিদ্যমান। অস্রের মুখে দুলাল কাবু হলেও সত্যটাই ইতিহাস হয়ে থাকবে।
ভূমি দস্যু শ্রমিকলীগের নেতা কালাম ফরাজী কর্তৃক নির্যাতিত দুলাল মিয়ার
দাবী, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সড়েজমিনে তদন্ত পূর্বক সঠিক প্রতিবেদন
আদালতে জমা দিবেন। প্রকাশিত সংবাদটি নির্যাতিত ও অসহায় মানুষের পাশে
দাড়ানো সংগঠন গুলোর নজর কাড়লে সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছে ওই
নির্যাতিত পরিবার।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর
error: Content is protected !!