ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৬ই আগস্ট, ২০২০ ইং

শিরোনাম
প্রকাশ : জুলাই ২৯, ২০২০

মাওলানা নাসির ও আব্দুর রহমানের জালিয়াতি ফাঁস !

অনলাইন ডেস্ক

তালাশ প্রতিবেদক ॥

মোটা অংকের অর্থ বিনিময় এবং জালিয়াতির মাধ্যমে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ থেকে অধ্যক্ষ হলেন বরিশাল সদর উপজেলার কর্ণকাঠী ইজ্জাতুল ইসলাম আলিম মাদ্রাসার নারী কেলেঙ্কারীর মূলহোতা মাওঃ নাসির। অধ্যক্ষ পদে আসন গ্রহনের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে মোটা অংকের অর্থ বিনিময়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নির্ধারিত পদের জন্য জালিয়াতির মাধ্যমে নিজেকে অবস্থান করাতে নানান উপায় অবলম্বন করে অভিযুক্ত এই ব্যক্তি। নারী নির্যাতন ও ইভটিজিং এর মামলার প্রধান আসামী হয়েও কোন খুঁটির জোরে মাওঃ নাসির অধ্যক্ষ হয়েছেন এ নিয়ে হতাশ স্থানীয় সুশীল সমাজ সহ প্রতিষ্ঠানের কর্মরত সকল শিক্ষক-কর্মচারীরা। যা নিয়ে সচিত্র তথ্য ও অনুসন্ধানে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে নড়েচড়ে বসেছে মাওঃ নাসির। তার এমন জালিয়াতির মাধ্যমে অধ্যক্ষ পদ লুফে নেয়ার বিষয় মিডিয়ার সংবাদ শিরোনামে উঠে আসার পর নিয়োগ প্রক্রিয়ার অভ্যন্তরীন অনিয়মের অজানা তথ্য বেড়িয়ে আসতে শুরু করছে।
বিশ্বস্ত বেশ কিছু সূত্রের তথ্য ও সংবাদের অনুসন্ধানে বের হয়েছে এমনি কিছু নতুন তথ্য। মাদ্রাসার এই পদটি নিজের করতে সুকৌশলে কিছু প্রভাবশালী মহলে সক্রিয় ইন্ধনের পাশাপাশি মাওঃ নাসির নিজ মনোনীত তথাকথিত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুর রহমান কে (যে কিনা নিজেই জানে না সে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ) সঙ্গে নিয়ে নিশ্চিন্তে জাল বুনেছেন এই জালিয়াতির মূলহোতা। যার পরিপেক্ষিতে বহাল তবিয়াতে রয়েছেন জামায়াত নেতা মাওঃ নাসির। আব্দুর রহমানকে আয়না হিসেবে ব্যবহার করে সরাসরি তার যোগসাজেশে জালিয়াাতির মাধ্যমে অধ্যক্ষ পদটি হাত করে নিতে কোন বেগ পেতে হয়নি তার। অধ্যক্ষ পদে অধিষ্ঠিত করতে এই জামায়াত নেতাকে অর্থের বিনিময়ে সহযোগীতা করছে কিছু তথাকথিত হাইব্রিড আওয়ামী লীগ নেতা।
উল্লেখ্য যে, পটুয়াখালী জেলার জৈনকাছী ধরানদি গ্রামের বাসিন্দা ফজলুল হকের পুত্র সক্রিয় জামায়াত নেতা দুই মামলার আসামী মাওঃ নাসির নিয়ম বর্হিভুত প্রক্রিয়া ও দপ্তর ম্যানেজে মোটা অংকের অর্থেও দেন-দরবারে এমন জালিয়াতির কর্মকান্ড পরিচালনা করেছেন অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে। এর আগে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পদ হাসিল করে নিতেও অতি চতুরতার সাথে ষড়যন্ত ও প্রভাব বিস্তার করেন তিনি। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানের দুইজন সিনিয়র ইনডেক্স প্রভাষক কে বৃদ্ধা আঙ্গুল দেখিয়ে বিতর্কিত নাসির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্বে বহাল থেকেই নিজেই অধ্যক্ষ পদে আবেদন করেন। এমনকি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মাদ্রাসা অধিদপ্তরের প্রতিনিধি পাওয়ার আবেদনে প্রথম পর্যায়ে প্রার্থীতা গোপন করে ও নির্দিষ্ট তথ্য পূরনের জায়গায় নিজের ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বার দিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপের কার্য পরিচালনা করেন মাওঃ নাসির।
একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে জানা যায়, পরবর্তী সময়ে নিয়োগ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি সংশ্লিষ্ট দপ্তর ম্যানেজের মাধ্যেমে ওয়েবসাইট থেকে আড়াল করে রাখার মিশনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে এই নাসির। তার এমন জালিয়াতির মুখোশ উন্মোচন হলে নিয়োগ পক্রিয়ার কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগেই এ বিষয়ে মাদ্রাসার পরিচালানা পর্ষদের একটি মাধ্যমে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে লিখিত ভাবে অভিযোগ দায়ের করা হলেও সু-নির্দিষ্ট কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। যার পরিপেক্ষিতে পত্রিকার মাধ্যমে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির প্রচারের ক্ষেত্রে মাদ্রাসার সভাপতি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বরিশালের স্থানীয় একটি ডায়াগণষ্টিক সেন্টারের ঠিকানা ব্যবহার করে অভিযুক্ত এই নাসির। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে সমোলচনার সূত্রপাত ঘটলে অবস্থা বেগতিক দেখে পুনরায় মাদ্রাসার ঠিকানা ব্যবহার করে লোক দেখানো বিজ্ঞপ্তি প্রচার করেন তিনি। এদিকে নিয়োগ সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপনে একজন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়ার কার্যক্রম পরিচালনা বিষয় উল্লেখ থাকায় নিজে চাটুকতার সহিত তার মনোনীত একজনকে ভারপ্রাপ্ত বানিয়ে নেন এই নাসির। যদিও সেই ভারপ্রাপ্তের দেয়া তথ্যে তার নিয়োগ সংক্রান্ত কোন কার্যক্রমে অংশগ্রহন ছিল না বলে দাবি করে দৈনিক আজকের তালাশকে তিনি বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের কোন দায়িত্বে আমি ছিলাম না। বিশ্বস্ত একটি সূত্রে আরো জানা যায়, জালিয়াতির প্রক্রিয়াকে বৈধ বানাতে মাদ্রাসা অধিদপ্তরের মনোনীত প্রতিনিধিকে নানাভাবে ভুল বুঝিয়ে নিজ আয়ত্বে ভিড়াতে ভুল করেননি তিনি। যার পরিপেক্ষিতেই অবৈধ অর্থ ও যড়যন্ত্রের মাধ্যমে অধ্যক্ষ পদ পেতে কোন কাঠখোড় পোহাতে হয়নি তার।
মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের ২০২০ সালের ১৬ জানুয়ারির স্মারক নং- ৫৭.২৫০০০০.০০৩.০১.০৫১.১৮.৪৬ এর একটি প্রতিনিধি মনোনয়ন প্রদান ফরমের ০৮ নং ধারায় সুস্পষ্ট উল্লেখ করা আছে যে, নিয়োগযোগ্য পদ ও কমিটি নিয়ে মামলা থাকলে সংশ্লিষ্ট পদে নিয়োগের সুপারিশ করা যাবে না। নির্ধারিত এই আদেশনামার ০৯নং ধারায় আরও উল্লেখ আছে, মহাপরিচালক, মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর, ঢাকা-এর প্রতিনিধি হিসাবে উপরিক্ত নির্দেশনাবলী পুঙ্খানুপুঙ্খরুপে প্রতিপালন ব্যতিত বেসরকারি মাদ্রাসায় শিক্ষক/কর্মচারী নিয়োগের সুপারিশ করা হলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০০৬ সালে ১৬ জুন তারিখের নং শা:৪/মামলা/৮/২৩৩/২০০৬/১৯৯১ পরিপত্র মোতাবেক মনোনীত প্রতিনিধির বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
তার এমন অপকর্মের সত্যতা এবং জালিয়াতির মাধ্যমে অধ্যক্ষ পদ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগের বিষয়ে দৈনিক আজকের তালাশ এর অনুসন্ধান টিম মাদ্রাসায় উপস্থিত হলে কোন বৈধ কাগজপত্র দেখাতে সক্ষম হয়নি তিনি। এসময় তিনি নিজের যোগ্যতা কে প্রমান করতে মৌখিক ভাবে নানান কৌশল অবলম্বন করেন।
নিজের অপকর্ম ঢাকতে মাদ্রাসার নিয়োগ প্রক্রিয়ার নামমাত্র ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দ্বারা সংবাদের অনুসন্ধানী টিম কে বিভ্রান্ত করিয়ে বেগ পায়নি মাওঃ নাসির। নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে মাওঃ নাসির মনোনীত নামমাত্র ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুর রহমানের দেয়া ব্যক্তিগত তথ্যে বেরিয়ে এসেছে তার জালিয়াতির এন্তেজাম। এ যেন এক বিশাল লঙ্কাকান্ড! নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালনার ক্ষেত্রে মাদ্রাসা অধিদপ্তরের জারীকৃত কোন তথ্য সম্পর্কে অবগত নন তথাকথিত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুর রহমান। অধ্যক্ষ পদ নিয়ে নীতিমালার কোন ধারনাই নেই আব্দুর রহমানের কাছে। তবে সাংবাদিকদের করা প্রতিটি প্রশ্নের সাঁজানো উত্তর ছিল অধ্যক্ষ পদের মূলহোতা নাসিরের কাছে। এক পর্যায়ে সাংবাদিকরা পূনরায় পদের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন করলে প্রসঙ্গ ঘুরিয়ে তার বিরুদ্ধে মাদ্রাসার বাংলা বিভাগের মহিলা প্রভাষককের করা মামলায় নিজেকে বিচারকের ভূমিকায় দাড় করান এই তীক্ষè বুদ্ধির অধিকারী নাসির।
এক পর্যায়ে তথাকথিত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের বিষয়টি ধামাচাপা দিতে অর্থে প্রদানে ব্যস্ত হয়ে পড়েন তিনি। এসময় টাকার প্রলোভন দেখিয়ে আব্দুর রহমান বলেন -বিষয়টি চেপে যান, আমরা আমরাই তো। আপনাদের ব্যাপারটা আমি দেখতাছি, আসছেন তৈল খরচ নিয়ে যান বাকিটা রাতে দেখছি বলে অনুসন্ধান টিমকে অর্থ প্রদানে ব্যস্ত হয়ে পড়েন চাটুকার এই জালিয়াতির অন্য শক্তি আব্দুর রহমান। এ সময় টাকা নিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি স্থানীয় এক প্রভাবশালীকে নিয়ে আসেন। এসময় ঐ প্রভাবশালী ব্যাক্তি বলেন, আপনারা আসছেন আপনাদের পরিচয় কি? আব্দুর রহমান নিয়োগের বিষয়ে কিছু জানেন না। যা বলার আমার সাথে বলেন। আব্দুর রহমানের সাথে কি কথা? এ সময় দৈনিক আজকের তালাশ পত্রিকার অনুসন্ধাণী টিম নিজেদের পরিচয় উপস্থাপন করে তার পরিচয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, থানায় ফোন দিয়ে পুলিশ আনাতাছি। টাকা চান আমাদের কাছে? ঐ রকম সাংবাদিক আমার বরিশালের অলিতে গলিতে জন্ম দেয়া আছে। এ সময় মার্জিত আচরণ করার জন্য তাকে অনুরোধ করা হলে আরো ক্ষিপ্ত হয়ে যায় ঐ ব্যাক্তি। এক পর্যায়ে আব্দুর রহমান বিষয়টি নিয়ে নিজের অবস্থান ঠিক রাখতে দৈনিক আজকের তালাশের প্রতিবেদকের হাতে মুঠো করে টাকা দিতে তোড়জোড় করেন। এসময় তাদের কে আবারও সর্তক করা হলে চটে যায় আব্দুর রহমান। হুমকীর সুর তুলে তিনি বলেন- যা পারেন করেন, ক্ষমতা কাকে বলে দেখবেন। আমার ছেলেও সেনাবাহিনীতে আছে। দেখি আমাকে কে দড়ি বাঁধে।



(কর্ণকাঠী ইজ্জাতুল ইসলাম আলিম মাদ্রাসার নিয়োগ প্রক্রিয়ার অনিয়মের তথ্যে বিস্তারিত আরো সংবাদ জানতে চোখ রাখুন পরবর্তী সংখ্যায়)



 


আপনার মন্তব্য