দেশজুড়ে

১০০ জন আরোহীর ছোট্ট লঞ্চটিকে মুহূর্তেই পিষে দেয় ময়ূর-২

  প্রতিনিধি ২৯ জুন ২০২০ , ১০:০২:৪৬ প্রিন্ট সংস্করণ

তালাশ ডেস্ক ॥ বুড়িগঙ্গা বেয়ে চলছিল দুটি যাত্রীবাহী লঞ্চ। বড়টি ‘ময়ূর-২’, ছোটটি ‘মর্নিং বার্ড’। একটির তুলনায় আরেকটি ‘পাহাড়সমান’। সামনে ছিল মর্নিং বার্ড। পেছনে ময়ূর। একটির পেছনে আরকটি চলছিল অনেক্ষণ। হঠাৎই ময়ূরের ভয়াবহ ধাক্কা খায় মর্নিং বার্ড। শুধু ধাক্কা নয়, বলতে গেলে একেবারে পিষে ফেলে প্রায় ১০০ জন আরোহীর লঞ্চটিকে।

 

এখন পর্যন্ত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে এ ঘটনায়। তাদের মরদেহ উদ্ধার করেছে উদ্ধারকারী বাহিনী। এখনও অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের উদ্ধারেও তৎপরতা চালাচ্ছেন নৌবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। এছাড়া মৃত্যু সংখ্যা আরও বাড়তে পারে আশঙ্কা করছেন ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাজ্জাদ হোসাইন।

 

সোমবার (২৯ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ এই ঘটনার ভিডিও বেরিয়েছে এরইমধ্যে। তাতে দেখা গেছে, এই মর্মান্তিক দৃশ্য। ঘটনার পর ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা থেকে সংগ্রহ করা হয় ওই ভিডিও। ইতোমধ্যেই এটি ভাইরাল হয়ে গেছে। দেখে স্তব্ধ হয়ে যাচ্ছেন অনেকে।

 

বুড়িগঙ্গা নদীর কেরানীগঞ্জের ফরাশগঞ্জ ঘাটে কমিল্লা ডক এরিয়ায় এ ঘটনা ঘটেছে। নিহতদের মধ্যে আটজন নারী, তিনজন শিশু এবং ১৯ জন পুরুষ রয়েছেন। এছাড়া অভিযুক্ত লঞ্চ ময়ূরের চালক পলাতক রয়েছেন। ময়ূর সদরঘাট লালপট্টি থেকে চাঁদপুরের দিকে যাচ্ছিল।

 

ঘটনাস্থলে রয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাজ্জাদ হোসাইন। সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে তিনি বাংলানিউজকে বলেন, এ পর্যন্ত ৩০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজদের উদ্ধারে তৎপরতা চালানো হচ্ছে। এছাড়া অভিযুক্ত ময়ূর লঞ্চটিকে আটক করা হয়েছে।

 

তিনি বলেন, নিহতদের মধ্যে ১৯ জন পুরুষ। আটজন নারী। এবং তিনটি শিশু রয়েছে। এছাড়া উদ্ধার অভিযান চলছে। মৃত সংখ্যা আরও বাড়তে পারে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে উদ্ধার কাজ ব্যাহত হচ্ছে উৎসুক জনতার ভিড়ে।

 

ডিজি বলেন, অনেক দুর্ঘটনায়ই উৎসুক জনতার ভিড় হয়ে যায়। এখানেও খুব ভিড়। আমি বোট নিয়ে ঘটনাস্থলে যাচ্ছিলাম। তখন আমার বোটেও মানুষজন উঠে গিয়েছিলেন যাওয়ার জন্য। বোটটি প্রায় ডুবে যাচ্ছিল তখন। আমি অনুরোধ করব, এই মর্মান্তিক ঘটনা নিয়ে ভিড় না করতে।

 

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ জামান বাংলানিউজকে বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় ১০০ জন যাত্রী ছিলেন ওই লঞ্চে। এরমধ্যে নিখোঁজ হয়ে যান প্রায় ৭০ জন। তা থেকে এ পর্যন্ত ৩০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

 

 

তিনি বলেন, মুন্সিগঞ্জ কাঠপট্টি থেকে প্রায় ১০০ জন যাত্রী নিয়ে লঞ্চটি ঢাকায় আসছিল। সকাল সাড়ে নয়টার দিকে ফরাশগঞ্জ ঘাট সংলগ্ন কুমিল্লা ডক এরিয়ায় ময়ূর-২ লঞ্চ পেছনের দিকে ধাক্কা দিলে মর্নিং বার্ড লঞ্চটি ডুবে যায় মুহূর্তেই। শুধু ডুবে যায়নি, ভিডিওতে দেখা গেছে, ভয়াবহ ধাক্কায় ছোট লঞ্চটিকে একেবারে বিধ্বস্ত করে ফেলে।

 

ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান বলেন, বুড়িগঙ্গা নদীর কেরানীগঞ্জের ফরাশগঞ্জ ঘাটে প্রায় ১০০ জন যাত্রী নিয়ে ডুবে যাওয়া লঞ্চটি ঢাকাগামী মর্নিং বার্ড। ময়ূর নামে আরেক লঞ্চের ধাক্কায় যানটি ডুবে যায় ভয়াবহভাবে।

আরও খবর

Sponsered content