ঢাকা, শুক্রবার, ২রা এপ্রিল, ২০২০ ইং

শিরোনাম
প্রকাশ : নভেম্বর ২৩, ২০১৯

নিয়মের বহির্ভূত বর্ধিত এলাকায় কয়েক গুন ট্যাক্স বৃদ্ধি , প্রশ্নবিদ্ধ মেয়র!

অনলাইন ডেস্ক

বরিশাল অফিস :-
বরিশালের ক্লিন ইমেজের নগরপিতাকে নগরবাসীর কাছে প্রশ্নবিদ্ধ করতে অনিয়মের জ্বাল বুনছে কতিপয় কর্মকর্তা কর্মচারীরা।সরকারি বিধি নিষেধ অমান্য করে একের পর এক অনিয়মে জনসাধারণদের অহেতুক হয়রানিতে পরতে হচ্ছে। তাদেরকে মেয়রের নির্দেশনায় হয়েছে বলে জানায় বিসিসি’র সুবিধা বাদি কতিপয় কর্মকর্তা কর্মচারীরা।বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের বর্ধিত এলাকাগুলোয় নাগরিক সকল সুযোগ সুবিধা এখনো না পৌছালেও গৃহকর বৃদ্ধি করে ১০% এর স্থলে ২৭ % হারে। বিধি মোতাবেক বর্ধিত এলাকাগুলোয় গৃহকর বৃদ্ধি করনের কোন বিধান না থাকা সত্বেও বিসিসি’র মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ’র ইমেইজ নষ্ট করতে তার নাম ব্যবহার করে বৃদ্ধি করা হয়েছে গৃহকর।এছাড়াও খোলা আকাশের নিচে কোন স্থাপনা না থাকলেও জমির মালিকদের গৃহকর ধার্য্য করেছে বিসিসি’র কর ধার্য্য শাখার কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।ভূক্তভোগী বর্ধিত এলাকার নাগরিকরা বিষয়টি নিয়ে নগর ভবনের কর ধার্য্য শাখায় গিয়েও পাচ্ছে না কোন সদুত্তর। বরংচ ট্যাক্স প্রদান করা নগরবাসীদের কটু কথা শুনিয়ে মেয়রের নির্দেশনাতেই বর্ধিত এলাকাগুলোর গৃহকর বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে সাফ ভুক্তভোগী জনসাধারণকে জানিয়ে দেয়া হচ্ছে। নগরীর ২৫,২৬,১০ নং ওয়ার্ড ও ১৩ নং ওয়ার্ডের স্থায়ী বাসিন্দা নাম না প্রকাশের শর্তে জানায়,তাদের ইট বালু সিমেন্ট রাখার জন্য ট্যাক্স ধরা হচ্ছে ২৭% হাড়ে।সাড়ে ৬ টাকা প্রতি স্কয়ার ফিট হিসেবে নির্ধারন করে নোটিশ প্রদান করা হয়েছে তাদের।বর্ধিত এলাকায়ও আকস্মিক ভাবে ২৭% হাড়ে বৃদ্ধি করে বানিজ্যিক মূল্য ধরছে তাদের গৃহের উপর। কর ধার্য্য শাখার কর্তবরত মেয়র পন্থী মেহদি,মাহফুজ,মোস্তাগাউসুল হক, এ্যাসেসর মাসুদ, এদের মধ্যে কতিপয়রা ভোলপাল্টে সহ কারী এ্যাসোসর থেকে এ্যসোসর পদে পদন্নতী পেয়েছে সম্প্রতি।প্রায় কর্মচারীরাই বলেন সরকার দলে নাম লিখিয়ে নব্য এ সকল অনুপ্রবেশকারীরাই মেয়রের বদনাল করতে আইনের বাইরে গিয়ে এসকল কার্যকলাপ করে চলছে। মেয়রের বরাত দিয়ে বর্ধিত এলাকার নাগরীকদের জানায় সব মেয়রের নির্দেশনা মোতাবেকই বানিজ্যিকের মূল্য নির্ধারন করা হয়েছে বলে কর ধার্য্য শাখার কর্তব্যরতরা বলেন।জনগনের উপর আইন বহির্ভূত ভাবে অতিরিক্ত করের বোঝা চাপানো হয়েছে তা মেয়রের নির্দেশনায় যে কারনে এর প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছে না তারা।এছাড়াও অভিযোগ করে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করলেও তাদের উপর হামলা কিংবা ঝামেলা হবার ভয়ে অভিযোগ কারীরা তাদের হোল্ডিং নং ও তাদের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হয়ে জানায়।তারা মেয়র বরাবর কর ধার্য্য শাখার কর্মরতদের আচার ব্যবহারের জন্য অভিযোগ করবে বলেও জানায় তারা।নগরীর ২৯ নং ওয়ার্ডের বর্ধিত এলাকা সুগন্ধা হাউজিং এ প্রায় ১থেকে দেড় শতাধিক হোল্ডিং ট্যাক্স বৃদ্ধি করে বানিজ্যিক মূল্য নির্ধারন করে এ্যাসোসর মাহফুজ যা সম্পূর্ণই আইনবহির্ভূত। জানাগেছে, ‘তৃতীয় পরিষদের মেয়র আহসান হাবিব কামাল থাকাবস্থায় নগরীর গৃহকর বৃদ্ধি করে একটি রেজুলেশন অনুমোদন করা হয়। যার বাস্তবায়ন করেন চতুর্থ পরিষদের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। পূর্বের পরিষদের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে গিয়ে গৃহকর কয়েক গুন বেড়ে যায়। যা নিয়ে নগরময় শুরু হয় নানা আলোচনা-সমালচনার।বিসিসি’র কর আদায় শাখা সূত্রে জানাগেছে, ‘সিটি কর্পোরেশন এলাকায় মোট ৫৩ হাজার হোল্ডিং রয়েছে। যার মধ্যে স্থাপনা পরিবর্তন হওয়া ৩ হাজার হোল্ডিং এর গৃহকর পুনঃ মূল্যায়নের আওতায় আনা হয়। নতুন করে মাপঝোপের স্থাপনা পরিবর্তন হওয়া ওইসব স্থাপনার ‍আইন অনুযায়ী নতুন কর মূল্যায়নের নির্দেশ দেন মেয়র। কিন্তু সেই নির্দেশনাকে কাজে লাগিয়ে ক্ষমতার অপপ্রয়োগ করেন বিসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সিটি কর্পোরেশনের প্রধান কর নির্ধারকসহ কতিপয় সুযোগ সন্ধানী কর্মচারীরা। তারা নিয়মের বাইরে গিয়ে প্রতিহিংসা বসত স্থাপনা মালিকদের নতুন গৃহকর মূল্যায়নের আওতায় নিয়ে এসে নোটিশ প্রদান করেন।এছাড়াও বধিত এলাকাগুলোরও নিয়মের বাইরে গিয়ে ১০% থেকে ২৭ % হাড়ে বৃদ্ধি করে বানিজ্যিক মূল্য নির্ধারন করে নোটিশ প্রদান করে।
সিটি কর্পোরেশনের কর মূল্যায়নের নিয়ম অনুযায়ী যাদের পুরানো স্থাপনা রয়েছে কিন্তু তাদের অবকাঠামো পরিবর্তন হয়নি এবং বর্ধিত এলাকাগুলোতে তাদের নতুন করে কর মূল্যায়ন করা হবে না। যারা স্থাপনা পরিবর্তন করেছে, বিশেষ করে টিনের ঘর থেকে পাকা দালান, এক তলা থেকে দুই তলা বা অবকাঠামোর পরিবর্তন হয়েছে তারাই নতুন কর মূল্যায়নের আওতায় আসে। এমন ৩ হাজার স্থাপনা নিয়ে কাজ শুরু করে সংশ্লিষ্টরা। যার মধ্যে বরিশাল সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ’র বাড়িও রয়েছে।অভিযোগ উঠেছে, ‘নিয়মে এক থাকলেও বাস্তবে করা হয়েছে ভিন্নটা। যাদের পুরানো স্থাপনা এবং অবকাঠামো পরিবর্তন হয়নি তাদেরও নতুন গৃহকর মূল্যায়নের আওতায় এনে নোটিশ দেয়া হয়েছে। আবার বাড়ি বা স্থাপনার সামনে নিজস্ব পরিত্যক্ত জমিতে ইট-বালু রেখে ব্যবসা করা ব্যক্তিদেরও নতুন ট্যাক্স মূল্যায়নের আওতায় আনা হয়েছে। সম্প্রতি নগরীর পুলিশ লাইন সংলগ্ন আমবাগান এলাকার বাসিন্দা আওয়ামী লীগ নেতা মফিজুল ইসলাম ঝন্টুকে নোটিশ দেয়ার পরে ‍এমন অনিয়ম ধরা পড়ে মেয়রের কাছে।বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রধান কর নির্ধারক মোশফেক আহসান আজম বলেন, ‘আমরা চাকুরি করি। আমাদের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রয়েছেন। তাদের নির্দেশেই এমনটি করা হয়েছে। শুধুমাত্র স্থাপনার কর আদায় করার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু তার স্থাপনার সামনে নিজ জমিতে মালামাল রেখে বিক্রি করলে সে জন্য কর দিতে হবে না। কিন্তু প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসরাইল হোসেন এর নির্দেশে এমন কিছু প্রতিষ্ঠানের কর মূল্যায়নের আওতায় আনা হয়েছে। যার মধ্যে ১০ নম্বর ওয়ার্ডস্থ চাঁদমারী এলাকায় ১০-১১ জন, ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে ৭-৮ জন, ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে ২-৩ জন এবং ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে ৩৫ জন রয়েছে। এদের বর্ধিত কর মূল্যায়নের আওতায় আনাটা সম্পূর্ণ অনিয়ম বলে স্বীকার করেন মোশফেক আহসান আজম। তবে এ অনিয়ম প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশেই করা হয়েছে। তাছাড়া এ বিষয়ে মেয়রের অনুমতি রয়েছে বলেও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আমাদের অবহিত করেন।বিসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসরাই হোসেন এর বক্তব্য জানা যায়নি। তবে গত শনিবার শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি’র বক্তৃতা দিতে গিয়ে গৃহকর নিয়ে অনিয়মের বিষয়টি প্রকাশ করেন মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। এ নিয়ে তিনি অনেকটা ক্ষোভ ঝাড়েন। বলেন, ‘আমাকে বিপদে ফেলতেই কিছু কর্মকর্তা এমন অনিয়ম করেছে। যা এখন তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। জণগনকে ভোগান্তিতে ফেলে কোন অনিয়মের সুযোগ নেই।তিনি বলন, ‘তদন্ত করে যেটা পেয়েছি সেটা চিন্তার বিষয়। যার শুনানীর কোন ক্ষমতা নেই, সেই কর্মকর্তাও গৃহকর নিয়ে আবেদনের শুনানী করেন। অথচ এ জন্য কাউন্সিলর এবং রাজস্ব কর্মকর্তার সমন্বয়ে কমিটি রয়েছে। মুলত আমাকে প্রশ্নের মুখে ফলতেই এই অনিয়ম করা হয়েছে। এর কারন আমি মেয়র হয়ে আসায় বিসিসি’র কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সমস্যা হয়েছে। যারা বিসিসিকে দুর্নীতির আতুরঘর বানিয়ে রেখেছে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর