ঢাকা, সোমবার, ৬ই এপ্রিল, ২০২০ ইং

শিরোনাম
প্রকাশ : ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২০

শেবাচিমের নিয়োগ বানিজ্যের হোতা মামা কাকার ভূমিকায় ব্রাদার মোস্তাফিজ

অনলাইন ডেস্ক

বরিশাল অফিস :-
মামা কাকার জোর ছাড়া চাকরি মিলেনা; এ কথাটি প্রচলিত আছে তবে, এ মামা কাকাটা কে? সে প্রশ্নটা সকলের কাছেই কৌতূহলেই রয়েছে। চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রমানে বরিশালে খুঁজে পাওয়া গেছে নিয়োগ-বাণিজ্যের সাথে এটে থাকা মামা কাকার ভূমিকা পালন করার ব্যক্তিকে। শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্রাদার স্বাধীনতা নার্সেস পরিষদের (স্বানাপ) শেবাচিম শাখার সভাপতি মোস্তফিজুর রহমান সরকারি চাকুরি দেবার তথাকথিত মামা কাকা বনে গিয়ে তদ্বির বানিজ্যে ফুলে ফেপে উঠেছে। ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে শেবাচিমে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের নিয়োগে ২২৬ জনের নিয়োগ পক্রিয়া শুরু হয়েছিল। সে সময় ব্যপকহাড়ে ঐ নিয়োগ প্রক্রিয়াতে দূর্ণীতি অনিয়ম ঘুষ বানিজ্যের অভিযোগ উঠলে,স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন উপসচিবের নেতৃত্বে তিন সদস্যর একটি দল শেবাচিমে নিয়োগ প্রক্রিয়ার সকল বিষয় খতিয়ে তদন্ত করে অনিয়ম দূর্ণীতির সত্যতা পায়। পরবর্তীতে তাদের তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াটি স্থগিত করে। এর সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডাঃ নিজাম উদ্দীন ফারুক, সহকারী পরিচালক শহিদুল ইসলাম এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তা আঃ জলিলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। আঃ জলিলকে শাস্তিমূলক সিলেট মেডিকেলে বদলী করা হয়। সে সময় ঘটনাটি দক্ষিনাঞ্চল সহ সারা দেশে ব্যাপক ভাবেই সমালোচিত হয়। পরবর্তীতে নিয়োগ বঞ্চিতরা উচ্চ আদালতে একাধিকবার আপিল করে। সে সময় মন্ত্রণালয় বিষয়টিকে দ্বিতীয় ধাপে তেমন গুরুত্ব না দেয়ায় ঐ নিয়োগ দীর্ঘ আড়াই বছর পরে পুনরায় উচ্চ আদালত নিয়োগ বঞ্চিতদের পক্ষে রায় দেয়। নিয়োগ প্রদানের সময় তৎকালীন পরিচালক এবং তার একান্ত সহকারী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তার যোগসাজশে ব্রাদার মোস্তাফিজ তার নিকট আত্মীয় পরিচয়ের ৫/৭ জনকে নিয়োগ প্রদান করে। প্রতিটি নিয়োগ থেকে ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা করে মোস্তাফিজ হাতিয়ে নেয়ারো অভিযোগ রয়েছে। এতোদিন নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রমানিত সকল অনিয়ম দূর্নীতি ঘুষ বানিজ্যের মূল হোতা ব্রাদার মোস্তাফিজের বিষয়টি অগোচরে থাকলেও সম্প্রতি তার নিজের সীকারোক্তি মূলক একটি অডিও কল রেকর্ড এবং অভিযোগ কারীদের সুনির্দিষ্ট প্রমানপত্র পাওয়াতে থলের বিড়াল বেরিয়ে এসেছে। আলোচিত শেবাচিমের নিয়োগ বানিজ্যের মূল হোতার নাম বেরিয়ে এসেছে প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে । কখনো খালাতো ভাই, কখনো মামাতো ভাই আবার কখনো নিকটতম শশুর বাড়ীর আত্ত্বীয় পরিচয়ে নিয়োগ প্রদান করিয়ে প্রায় ২৫ লাখ টাকার মত ব্লাকমানির মালিক বনে গেয়েছে শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্রাদার মোস্তাফিজুর রহমান। শেবাচিম সূত্রে মোস্তাফিজ ২০১০ সালে একই প্রক্রিয়াতে মামা কাকার জোরে চাকুরী পান। এরপরে সরকারি কাগজপত্র বেহাত করাসহ ঠিকাদারদের সাথে গভীর সক্ষতা অতঃপর ক্ষমতাসীন দলীয় ব্যানারে সংগঠন করা শুরু করে। এরপরে অবশ্য তাকে আর ফিরে তাকাতে হয়নি, জরুরী বিভাগের টিকিট ফির অতিরিক্ত টাকার ভাগ নেয়াসহ বিভিন্ন সময়ের নিয়োগে লোক মারফত তাদের নিয়োগ পাইয়ে দেবার কথা বলে লক্ষ লক্ষ টাকার বানিজ্য করে তিনি সল্প সময়ে আঙুল ফুলে কলা গাছ বনে গিয়েছে। নিয়োগ প্রাপ্তিতে আগ্রহীদের মামা কাকা বনে গিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে লবিং তদ্বির করে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজনকেই শেবাচিম সহ সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকুরি দেয়। গেল ২০১৬ সালে ১৭/১৯ জনকে নিয়োগ দেবার কথা বলে হাতিয়ে নেন লক্ষ লক্ষ টাকা। এরমধ্যে তার খালাতো ভাই (সাজানো) এক প্রার্থীর নিয়োগ না হওয়ায় তার এ বৃহৎ মামা কাকা নামে চাকুরী বানিজ্যের বিষয়ের গোমর ফাঁস হয়ে গেছে। তার বিষয়ে অনুসন্ধানে গেলে, তার বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে তার সাঙ্গপাঙ্গের ভাস্য মতে, নতুন যোগদান করা নার্স কিংবা ইন্টানীদের সাথে গোপন সম্পর্ক যা ছাড়া টিকে থাকা বড় দায় । তিনি শেবাচিমের কতিপয় ডাক্তার কর্মকর্তার মনোরঞ্জনের খোরাক জোগাতে বেশ পটু। তারই এক সাঙ্গ স্বাধীনতা নার্সেস এসোসিয়েশন (সানাব) বহিস্কারকৃত দপ্তর সম্পাদক শেবাচিমের সিনিয়র নার্স মোঃ রফিকুল ইসলাম সম্প্রতি এক রোগীর সাথে অসামাজিক কার্যকলাপের ভিডিও ভাইরাল হলে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ের সত্যতার নিশ্চিত করে অনেক তথ্য প্রমান দিয়েছে শেবাচিমের একাধিক কর্মকর্তা কর্মচারীরা। যা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশিত হবে। অভিযুক্ত ব্রাদার মোস্তাফিজুর রহমান প্রথমে তার খালাতো ভাইয়ের জন্য তদ্বির লবিং করে টাকা দিয়েছে ২০১৬ সালে। যদিও তিনি বলেন এক্ষেত্রে তিনি কেবল মধ্যস্ততা করেছেন তবে নিয়োগ বানিজ্যের মূল হােতাদের মধ্যে তিনি অন্যতম।এ রকম একটি তদবিরে নিশ্চিত প্রমান রয়েছে মোস্তাফিজের আপন খালাতো ভাইয়ের পরিচয় দিয়ে একটি মাধ্যমে ১ লক্ষ টাকা প্রদান করার। মোস্তাফিজ বিষয়টি লুকোবার অপচেষ্টা করলেও, তার আপন খালাতো ভাইয়ের পরিচয়ে তদ্বির করলেও আশ্চর্য করার মত বিষয় হল তিনি সে খালাতো ভাইয়ের নামই জানেন না বলে জানান, মনে নেই বললে অনুসন্ধানের মোড় আরো জটিল স্তরে গিয়ে পৌছায়। পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ব্রাদার মোস্তাফিজ বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি চাকুরীর প্রার্থীদের তার আত্মীয় স্বজন সাজিয়ে মোটা অংকের বিনিময়ে লবিং তদ্বির করে চাকরী দেয়াটাই তার মূলত মূল ব্যবসা। বর্তমানে শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা সত্বেও বেকারত্বের অভিশাপের গ্লানি নিয়ে ঘুরছে লাখ লাখ শিক্ষিত যুবক! সেখানে মোস্তাফিজের মামা কাকার ভূমিকায় থেকে চাকুরীর এমন বানিজ্যের বনিক অযোগ্যদের বিবেচনা ছাড়াই লবিং এ নিয়োগ পাইয়ে দেবার কারনকেই এ সকল দালালদের দূষছে সুশীল সমাজ। তারা আরও বলেন, বেকারত্ব কমিয়ে আনার ব্যর্থতার কারন হিসেবে মোস্তাফিজের মত দালালদের নির্মূল করতে হবে। তাদের দাবী এমন সরকারি কর্মচারীদের এমন কঠোর শাস্তি প্রদান করা হোক, যাতে করে বর্তমানের স্বচ্ছ পরিচ্ছন্ন সরকারের কার্যক্রমে কেউ যেন সামান্যতমও দাগ না লাগানোর ইচ্ছে টুকুও না করে। শেবাচিমের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মিজানুর রহমান এ বিষয়ে জানান,নিয়োগ পাইয়ে দেবার কথা বলে আর্থিক লেনদেন করে দালালী করেছেন তিনি। এ ধরনের বড় অপরাধ ব্রাদার মোস্তাফিজ কোন ক্রমেই করতে পারেন না। তাদের দপ্তর দূর্নীতি মূক্ত ঘোষনা করা হলেও এখনো ফাঁকে ফাঁকে কতিপয়রা এমন বড় ধরনের দূর্নীতি অনিয়ম করে চলছে। অভিযুক্তর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্টভাবে অভিযোগের বিষয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং মন্ত্রনালয়ের বরাবর প্রেরন করা হবে।সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমানসাপেক্ষের প্রকাশিত পত্রিকার মাধ্যমে মন্ত্রণালয় সত্যতা নিশ্চিত হলে তার যে সিদ্ধান্ত নিয়ে যে নির্দেশনা দিবে সে মোতাবেক যথাযথ ভাবেই ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী জাহিদ মালেকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তার ব্যস্ততার কারনে কথা বলা সম্ভব হয়নি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সুপ্রিয় কুমার কুন্ড এ বিষয়ে সাংবাদিকদের জানায়,সকল দূর্নীতি অনিয়মের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকার জিরো টলারেন্সে রয়েছে। তাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর নির্দেশে আমরা যে কোন ধরনের অনিয়ম দূর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স অনুসরণ করছি। অতএব যদি সুনির্দিষ্ট কোন প্রমান পাই তাহলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। অতএব বর্তমান সরকারের জিরো টলারেন্স আমরা অনুসরণ করছি। এবং বর্তমান সরকারের যে অনুশাসন গুলো আছে সেগুলো আমরা প্রতিটা ক্ষেত্রে পরিপালন করবো। এগুলো হচ্ছে আমাদের মাননীয় মন্ত্রী এবং সচিবগনের নির্দেশনা। বাংলাদেশ নার্সিং অধিদপ্তরের(মিডওয়েফারী) মহা পরিচালক (ডিজি)তন্দ্রা সরকার বলেন, তারা এখনো এ বিষয় অবগত নন। অভিযোগ উঠলে তদন্ত করে সঠিক ভাবে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডাঃবাকির হোসেন জানায়, আমার কাছে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ আসে নি, অভিযোগ উঠলে যথাযথ ভাবেই সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।


আপনার মন্তব্য