ঢাকা, শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২০ ইং

শিরোনাম
প্রকাশ : এপ্রিল ২, ২০২০

অসচেতনতার সামাজিক দুরত্বে চলছে সংক্রামণ ঝুঁকির ত্রাণ বিতরণ!

অনলাইন ডেস্ক

রকিব উদ্দিন পিয়ালঃ


করোনা ভাইরাসে কাঁপছে গোটা বিশ্ব। পৃথিবী আজ করোনা নামক ভাইরাসের আক্রমণের শিকার । কোন প্রকার যুদ্ধ ছাড়াই অচল করে দিয়েছে পুরো বিশ্বকে।

ইউরোপ থেকে আমেরিকার কেউ রেহাই পায়নি এই মহামারী ব্যাধি থেকে। ইতালি, স্পেন, আমেরিকা, কানাডাসহ উন্নত দেশগুলো যেন হয়ে গেছে মৃত্যুপুরী।

চীনের উহান শহর থেকে বিস্তার লাভ করা এই প্রাণঘাতী ভাইরাসটি বর্তমানে পৃথিবীতে প্রায় ৯ লক্ষাধিক মানুষকে সংক্রামিত করেছে। তাদের মধ্যে মৃত্যুবরণ করেছে প্রায় ৪২,৩৮৫ জন মানুষ।

মহামারী এই ভাইরাসের সংক্রামণ থেকে বাদ যায়নি বাংলাদেশ । দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে যাওয়া এ ভাইরাসের প্রকোপে অবরুদ্ধ, অচলাবস্থা বিরাজ করছে দেশজুড়ে।

দেশকে করোনা থেকে মুক্ত করার জন্য সরকারি নির্দেশনায় সকল অফিস আদালত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। যার পরিপেক্ষিতে কর্মহীন হয়ে পড়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে খেটে খাওয়া জনগণ!

সংক্রমণ এড়াতে দেশ লকডাউন করে সবাইকে নিরাপদে নিজ গৃহে অবস্থান করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। জরুরি অবস্থায় দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সর্বত্র জনসাধারণের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রতিরোধ ব্যবস্থায় তৎপর রয়েছেন স্থানীয় প্রশাসন।

সরকারি ভাবে কর্মহীন অসহায় জনগণের মাঝে ইতিমধ্যে বরাদ্দকৃত ত্রাণ তহবিল পৌঁছে দেয়ার জন্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছে দপ্তরগুলো।

স্থানীয় জণপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন এমনকি ব্যক্তিগত উদ্যোগে অনেকেই দায়িত্বশীলতার জায়গা থেকে এগিয়ে আসছেন। অসহায় দিনযাপন করা মানুষদের জন্য সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে দেশের এমন ক্রান্তিলগ্নে মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন।

কিন্তু করোনার প্রার্দুভাব ঠেকাতে সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখার বিষয়ে জনগণের মাঝে নেই তেমন কোন সচেতনতা।

যদিও প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষকে এ ব্যাপারে জাগ্রত করতে নানান ভাবে জোড় নজরদারি চলছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। সড়ক, পাড়া-মহল্লায় বিশেষ টহল ব্যবস্থা, ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা অব্যহত রেখে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষিতদের আনা হচ্ছে আইনের আওতায়।

কেননা ভাইরাসটি দ্রুততম সময়ে ছড়িয়ে যাবার মুখ্য একটি কারন হিসেবে সামাজিক দুরত্ব বজায় না থাকার বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে প্রচারনা, প্রশাসনের এমন অব্যহত মনিটরিং ব্যবস্থায় শহরের বিভিন্ন স্থানে জনসমাগম কিছুটা কম লক্ষ্য করা গেলেও ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম গুলোতে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন রূপ।

ইতিমধ্যে যে কোন স্থানে ত্রাণ বিতরনের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসন এর অনুমতি নেয়ার বিষয়ে জানিয়ে দেয়া হলেও তা মানছে না অনেকেই।

দেশে করোনা সংক্রামণের এমন সংকটপূর্ণ সময়ে ত্রাণ বিতরণে সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত না হলে করোনা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ এর মুখোমুখি হয়ে দাড়াবে বলে ধারনা করছেন বিশ্লেষকরা।

বরিশাল নগরীর বিভিন্ন স্থান পর্যবেক্ষণকালে দেখা যায়, এলাকা ভিত্তিক ভাবে ত্রাণ বিতরণে মানা হচ্ছে না সামাজিক দুরত্বের কোন সচেতনতা।

অসেচতনতার সামজিক দুরত্বে চলছে সংক্রামণ ঝুঁকির ত্রান বিতরণ!

সোশ্যাল মিডিয়ার পোষ্ট কভারেজ করতে জড়োসড়ো হয়ে চলছে ফটোসেশান।

যার পরিপেক্ষিতে সামাজিক দুরত্ব বজায় না থাকায় করোনা সংক্রামিত রোগীর হার বেড়ে গিয়ে চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকির আশংকা করছেন স্বাস্থ্য বিশ্লেষকরা।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সর্বদিক থেকে পর্যাপ্ত উন্নত চিকিৎসা সেবা, জীবনমানের ব্যবস্থায় এগিয়ে থাকা সত্ত্বেও অসচেতনতার মাশুল গুনে লড়াই করতে হিমশিম খাচ্ছে অদৃশ্য এই ভাইরাসের সাথে।

তাই অচিরেই সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিতের বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন তাদের গৃহীত নিয়ম ব্যবস্থা এবং কার্যক্রম গুলো আরও কঠোর নজরদারির মাধ্যমে বাস্তবায়ন করবেন বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য সচেতন সাধারণ জনগন।


আপনার মন্তব্য