অপরাধ

বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের তৎপরতায় বন্ধ হলো শতবর্ষী পুকুর ভরাট

  প্রতিনিধি ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ , ৩:০৩:০৩ প্রিন্ট সংস্করণ

তালাশ প্রতিবেদক॥ কর্পোরেশনের (বিসিসি) তৎপরতায় শেষ রক্ষা হলো শহরের একটি শতবর্ষী পুকুরের। স্থানীয়দের থেকে অবহিত হয়ে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ম্যাজিস্ট্রেট পুকুর ভরাট কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। এক সপ্তাহ ধরে স্থানীয় একদল ভূমিখেকোর মাধ্যমে পুকুরটি ভরাটের কাজ চলছিল।

 

শহরের ব্রাউন কম্পাউন্ড সংলগ্ন ‘মিসেস এমটি ব্রাউন’ নামে পরিচিতি পুকুরটি ভরাটের খবর পেয়ে রোববার দুপুরে সিটি কর্পোরেশনের সড়ক পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান বাবু, সাজ্জাদ, সালাউদ্দিন, জাহাঙ্গীর, ইমরান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সত্যতা পায়। তাৎক্ষনিক তারা দায়িত্বশীলদের এ ব্যাপারে অবহিত করে। পরে সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে পুকুর ভরাট কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। পাশাপাশি পুকুর ভরাটে নিষেধাজ্ঞা জারি করে একটি সাইনবোর্ড টানিয়ে দেন।

 

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি- পুকুরটি এমটি ব্রাউনের। তিনি এই জমি ১৯২২ সালে একটি দলিলের মাধ্যমে স্থানীয় বাসিন্দাদের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করেন। পর্যায়ক্রমে এই জমি সরকারি খাস জমিতে রূপ নেয়। আর ওই দলিলে উল্লেখ করা হয়, এই পুকুর সবাই ব্যবহার করতে পারবেন। পুকুর রক্ষণাবেক্ষণও তারাই করবেন। কিন্তু গত এক সপ্তাহ ধরে রাত ৩টার দিকে ট্রাকভর্তি বালু ফেলা শুরু হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা আরও জানান, এই পুকুর সর্ব সাধারণের ব্যবহারের জন্য মিসেস এমটি ব্রাউন দিয়ে গেছেন। কিন্তু একটি মহল এই পুকুরের জমি দখলের জন্য দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনা ফেলতে ফেলতে ডোবায় পরিণত করেছেন। এখন পুকুরটি ভরাট করা হচ্ছিল। নগরবাসী পুকুরটি সংস্কার ও সংরক্ষণের জন্য সিটি করপোরেশনের কাছে জোর দাবি জানিয়ে আসছিল।

 

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি ইতিপূর্বে ওই পুকুর সংষ্কর ও সংরক্ষণের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর, সিটি কর্পোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দিয়েছেন। নদী-খাল-পুকুর বাঁচাও আন্দোলন কমিটিও এ পুকুরটি রক্ষণাবেক্ষণের দাবি জানিয়েছিলেন।

 

অবশেষে সেই পুকুরটি রক্ষায় সিটি করপোরেশন ভূমিকা নিলে তাদের সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি পুকুরটি সংষ্কর ও সংরক্ষণ করে সেখানে ওয়াক ওয়ে নির্মাণের দাবিও জানিয়েছেন স্থানীরা। সিটি কর্পোরেশনের সড়ক পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান বাবু জানান, শহরের পুকুর-জলাশয়গুলো ক্রমাগত ভরাট হয়ে যাওয়ায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। ফলে শুষ্ক মৌসুমে বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিচ্ছে। এ ছাড়াও অগ্নিনির্বাপণের জন্য প্রয়োজনীয় পানির উৎস পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে শহরের সব কটি পুকুর-জলাশয় রক্ষা করা একান্ত প্রয়োজন। তারই ধারাবাহিতায় এ পুকুরটি রক্ষায় ভরাট করা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

আরও খবর

Sponsered content