দেশজুড়ে

একজন করোনা যোদ্ধা ভাইস চেয়ারম্যান মৃদুল আহম্মেদ সুমন

  প্রতিনিধি ৫ আগস্ট ২০২১ , ৮:১০:৩০ প্রিন্ট সংস্করণ

পিরোজপুর প্রতিনিধি॥ পিরোজপুরের কাউখালীতে করোনা আক্রান্তদের পরিবারে খাদ্য,ফলমূল আর মুমূর্ষু রোগির প্রাণ বাঁচাতে অক্সিজেন নিয়ে ছুটে বেড়ান তরুণ জনপ্রতিনিধি মোঃ মৃদুল আহম্মেদ সুমন।

এছাড়া তিনি আক্রান্তরদের প্রয়োজনী ঔষধ পথ্যও সরবরাহ করে আসছেন। করোনা সংক্রমণের শুরু থেকে সংকটাপন্ন মানুষের পাশে সুমনের ভালোবাসার পরশ অব্যহত রয়েছে।

তরুণ এ জনপ্রতিনিধি ও করোনাযোদ্ধা সুমন কাউখালী উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ।

স্থানীয়দের সূত্রে জানাগেছে, কাউখালীতে করোনা সংক্রমণের শুরু থেকে উপজেলা পরিষদের তরুণ ভাইস চেয়ারম্যান মৃদুল আহম্মেদ সুমন জনসচেতনা কার্যক্রমে প্রচার-প্রচারণা চালান।

সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর তিনি লকডাউনে ঘরবন্দী মানুষের জন্য খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি করোনা আক্রান্তদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভালবাসার পরশ নামে সেবা চালু করেন।

তার ভালোবাসার পরশ সেবার প্যাকেজে ফলমূল ও নানা ঔষধ পথ্য সরবরাহ করা শুরু করেন। পরে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় দাপে তিনি পিরোজপুর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন মহারাজ এর সহযোগিতায় করোনায় বিপন্ন রোগির প্রাণ বাঁচাতে বিনামূল্যে অক্সিজেন সেবা চালু করেন।

তিনি দিনরাত এ ভালোবাসার পরশ নিয়ে নিবেদিতভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। করোনায় বিপন্ন মানুষের এ সেবা কার্যক্রম এলাকায় মানুষের মাঝে সাড়া ফেলেছে।

তিনি কাউখালী জনপদে প্রথম সারির একজন করোনাযোদ্ধা হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি করোনা সংক্রমণের শুরু থেকে উপজেলার প্রত্যেকটি গ্রামে গ্রামে মানুষের কাছে গনসচেতনার লিফলেট ও মাক্স বিতরন করে আসছেন।

নিজস্ব অর্থায়নে অক্সিজেন সিলিন্ডার কিনে করোনা রোগীর বাড়িতে বাড়িতে পৌঁছে দেন। করোনা আক্রান্তদের বাড়িতে নিজে গিয়ে বাড়িতে খাদ্য সহয়তা দিয়ে আসছেন।

এছাড়া রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির পক্ষে নিজস্ব কর্মিদের দিয়ে টিকা দান কাজে সহায়তা সহ সরকারের লকডাউনের কাজে প্রশাসনের সাথে মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন।

এছাড়াও কোন পরিবার যদি খাদ্য সংকটে থাকার খবর পেলে সাথে সাথে প্রধানমন্ত্রী পক্ষে খাবার পৌছে দিচ্ছেন।

করোনায় আক্রান্ত হয়ে কেহ মারা গেলে গোসল দাফন জানাজার আয়োজন করাসহ সংশ্লিষ্ট পরিবারকে সহায়তা দেন।

শুধু করোনাকাল নয় এ তরুণ জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হবার পরে দুই বছর ধরে প্রাকৃতিক বিপর্যয় বন্যা আম্পান,ফণি, বুলবুল,আয়াস সকল দূর্যোগে রাত দিন দুর্গত মানুষের সেবা দেন।

সরকারের সহ নিজের অর্থায়নে ত্রানের ব্যাবস্থা সহ জনগনকে সচেতন করার লক্ষে উপজেলার মসজিদে মসজিদে নিজে মাইকিং সহ সরকারের আশ্রয়নে আশ্রিতদের নানা সহায়তা করে চলেছেন।

কাউখালী উপজেলার ৩নং সদর ইউনিয়নের বাশুরী গ্রামের আব্দুল হকের স্ত্রী রেনু বেগম বলেন, করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর সুমন ভাই জানতে পেরে তার ভালোবাসর পরশ নিয়ে আমাদের বাড়িতে আসেন।

তিনি ঔষধসহ খাদ্য সামগ্রী দিয়ে যান। এরপরও তিনি আমার শারীরিক অবস্থার খোজ-খবর নেন। আমার পরিবার তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ।

কাউখালী উপজেলা প্রেসক্লাব সভাপতি তারিকুল ইসলাম পান্নু বলেন, সুমন একজন সম্ভাবনাময় মানবিক তরুণ জনপ্রতিনিধি। তিনি কাউখালীর করোনাযোদ্ধা।

সংকটকালে তিনি করোনায় আক্রান্তদের পাশে স্বজনের মতোন ভালোবাসার পরশ দিচ্ছেন। এ প্যাকেজে রোগির প্রয়োজনীয় ঔষধ, পথ্য, ফলমূল ও আক্রান্তদের প্রাণ বাঁচাতে জরুরী ঔষধসেবা ও বিনামূলে অক্সিজেন সেবাও দিয়ে আসছেন। সংকটকালে বিপন্ন মানুষের প্রতি সুমনের এ ভালোবাসার পরশ প্রশংসনীয় উদ্যোগ।

এ বিষয়ে মানবিক উদ্যোক্তা তরুণ মৃদুল আহম্মেদ সুমন বলেন, করোনা সংকট আমাদের জীবনকে স্থবির করে দিয়েছে। আমরা সকলেই ঝুঁকির মধ্যে আছি।

জীবনে এতা খারাপ সময় মানুষের আর আসেনি। এসময় মানুষের পাশে মানুষকে দাঁড়ানো উচিত। করোনা সংক্রমণের শুরু থেকে বিপন্ন মানুষের পাশে আছি শেষ অবধিও থাকতে চাই।

এ বিষয়ে কাউখালী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ও সামাজিক উদ্যোক্তা আব্দুল লতিফ খসরু বলেন, তারুণ্য আমাদের একটা শক্তি।

সংকটকালে মানবিক তরুণরাই আশা জাগানিয়া\ ভাইস চেয়ারম্যান মৃদুল আহম্মেদ সুমন আমাদের কাউখালীর প্রথম সারির একজন করোনা যোদ্ধা । তাঁর মহতী উদ্যোগগুলো প্রশংসনীয়।

আরও খবর

Sponsered content