Uncategorized

খুড়িয়ে খুড়িয়ে নয় পঙ্গুত্ব বরণের দিকে হাটছে ছাত্র রাজনীতি!

  প্রতিনিধি ১১ সেপ্টেম্বর ২০২০ , ৭:০২:৩৯ প্রিন্ট সংস্করণ

উপ-মহাদেশের প্রাচীনতম সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। এই ছাত্র সংগঠনটি আওয়ামী লীগ গঠন করার আগে বাংলার মাটিতে তাদের পদযাত্রা শুরু করেছিলো। বাংলাদেশ সৃষ্টিতে এই ছাত্র সংগঠনটির রয়েছে সংগ্রাম ও গৌরব দীপ্ত ভূমিকা। সোনার বাংলার স্বপ্নের ঐতিহ্যবহন করা এই ছাত্র সংগঠনটি বরিশালের বানারীপাড়ায় তাদের মূলমন্ত্র শিক্ষা, শান্তি ও প্রগতির ধারক ও বাহক হবার পরিবর্তে নেতা নির্ভর হয়ে পড়েছে। সর্বশেষ বানারীপাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি গঠন হয়েছিলো ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারী মাসের প্রথক দিকে।
ওই কমিটিতে সভাপতি করা হয়েছিলো মো. সুমন হোসেন মোল্লাকে আর সাধারন সম্পাদক করা হয়েছিলো মো. ফোরকান আলী হাওলাদারকে। সে সময়ে কমিটির সভাপতি ও সম্পাদক সহ মোট ১১টি পদের নাম ঘোষনা করা হয়েছিলো বরিশাল জেলা ছাত্রলীগ থেকে। বর্তমানে ওই ১১টি পদের মধ্যে সভাপতি ও একজন সহ-সভাপতি এবং একজন যুগ্ম-সম্পাদকের ওপরে সাময়িক বহিস্কারাদেশ রয়েছে। বাকি ৮জন এই উপজেলার এবং পৌরসভার শীর্ষ নেতা বা জনপ্রতিনিধিদের তল্পি বাহক হয়ে ছাত্রলীগের নীতি, আদর্শ ও গঠনতন্ত্র থেকে অনেক দূরে থেকে সস্তা রাজনীতির পাত্র হয়ে আছেন।
এদের মধ্যে আবার অনেকে বিভিন্ন নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগের হয়ে মনোনয়ন চাওয়া সকল নেতাতের কাছ থেকে অর্থ হাতানোর মিশনে লিপ্ত থাকে বলেও গুঞ্জন রয়েছে। উপজেলা ছাত্রলীগ কমিটি গঠন হবার পর থেকে ৮টি ইউনিয়ন, একটি সরকারি কলেজ সহ কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে পারেনি। এমনকি তাদের কমিটিরও পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে পারেনি এখন পর্যন্ত। ফলে ছাত্রলীগের আগামীর কোন নেতৃত্ব এই উপজেলায় তৈরি হয়নি। বানারীপাড়া পৌর শাখা ছাত্রলীগের কমিটিও ঘোষনা হয়েছিলো ২০১৬ সালের প্রথম দিকে (উপজেলা কমিটি ঘোষনার দিনই)। কমিটিতে শুধুমাত্র সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষনা দিয়েই শেষ করা হয়েছিলো।
আজ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ হয়নি সেই পৌর শাখা কমিটিও। এই কমিটির পদ চলাও একই রকম বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই কমিটির সভাপতি করা হয়েছিলো মো. রুহুল আমিন রাসেল মালকে আর সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছিলো মো. সজল চৌধুরীকে। তারাও পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের একটিরও কমিটি গঠন করতে পারেনি। যারফলে পৌরসভায়ও ছাত্রলীগের আগামীর নেতৃত্ব তৈরি হচ্ছেনা। সবমিলিয়ে খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলার চেয়েও ঐতিহ্যবাহী এই সংগঠনটির অবস্থা উপজেলা ও পৌর শাখায় মারাত্বক বিপর্যয়ের মূখে পতিত হয়ে আছে। যা থেকে উত্তরণের পথে হাটা এই নেতৃত্ব আগেই হারিয়ে ফেলেছে। আর এভাবে নেতৃত্ব এগিয়ে গেলে এখানে ভভিষ্যতে ছাত্রলীগের রাজনীতির ভাগ্যাকাশে কি হয় তা নিয়ে সন্ধিহান রয়েছেন রাজনৈতিক বোদ্ধারা। অপরদিকে অন্যতম রাজনৈতিক বৃহৎদল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদীদল বিএনপির ছাত্র সংগঠন ছাত্রদলের মধ্যেও একই অবস্থা বিরাজ করছে।
এখানে উপজেলা ছাত্রদলের কমিটি গঠন করা হয়েছিলো ২০০২ সালে। ওই কমিটিতে মো. হাবিবুর রহমান জুয়েলকে সভাপতি ও মো. টুটুলকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছিলো। গঠন করার পরেই এই কমিটির পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়া হয়েছিলো। ওই সময়ে বিএনপি ক্ষমতায় থাকায় ছাত্রদলের মধ্যে তেমন গ্রুপিং ছিলোনা। তবে পরে গ্রুপিংয়ে জড়িয়ে পরেছিলো সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ। সেই থেকে এখন পর্যন্ত ওই কমিটিই বলবৎ রয়েছে। বর্তমানে উপজেলা ছাত্রদলের কমিটিতে আসতে দলীয় কর্মসূচিতে নতুনদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। পৌর ছাত্রদলের কমিটিও  হয়েছিলো ২০০২ সালে।
ওই কমিটিতে মো. তুহিন মৃধাকে সভাপতি ও মো. মিজান ফকিরকে সাধারণ সম্পাদক করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষনা করা হয়েছিলো। ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দরা এক সময় আলাদা আলাদা ভাবে নেতা নির্ভর হয়ে পরেছিলো। বানারীপাড়া উপজেলা ও পৌর শাখা ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হলেও জেলা থেকে নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টিতে কোন প্রকার পদক্ষেপ না নেয়ায় চরমভাবে হতাশায় পড়ে পিছু হাটছে এখানকার আগামীর ছাত্র রাজনীতি করার আগ্রহীরা।
এই যখন অবস্থা তখন খুড়িয়ে খুড়িয়ে নয় এখানকার দুটি রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠন এক প্রকার পঙ্গুত্ব বরণের দিকে অগ্রসর হয়ে পড়েছে ভবিষ্যতের রাজনীতির মাঠের জন্য। এ থেকে বেড়িয়ে আসতে হলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, মূল দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের এবং জেলার ছাত্র সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দদের এগিয়ে এসে ছাত্র রাজনীতির পরিচ্ছন্ন কর্মী বেছে নিতে হবে। আর সেই বেছে নেয়া কর্মীদের দিয়েই নতুন করে কমিটি গঠন করলে আলোকবর্তিকা হতে পারে এ দুটি ছাত্র সংগঠন। এমনটাই জানা গেলো প্রতিবেন তৈরিতে অনুসন্ধানের সময়।

আরও খবর

Sponsered content