Uncategorized

বরিশালের মাদক বাণিজ্য এখন কিশোর গ্যাংয়ের দখলে!

  প্রতিনিধি ১ অক্টোবর ২০১৯ , ৪:১১:২৮ প্রিন্ট সংস্করণ

বরিশাল অফিস :-
বরিশালের মাদক বাণিজ্য এখন কিশোরদের দখলে! নগরীর ‘মাদকসাম্রাজ্য’ খ্যাত বরিশাল নথুল্লাবাদ এলাকার আশপাশের  এলাকা গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে দখল-বেদখলের খেলা চলে আসছে। কিছুদিন পরপর এক গ্রুপকে হটিয়ে নিয়ন্ত্রণ নেয় আরেক গ্রুপ। মাঝে মাঝে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের পর কিছুদিন বন্ধ থাকলেও পরবর্তীতে আবারো শুরু হয় মাদক বিকিকিনি। এবারো এর ব্যতিক্রম হয়নি। ক’দিন আগে র‌্যাব-পুলিশের অভিযানে বিপুল পরিমান ইয়াবার কয়েকটি বড় চালান আটকের পর মাদক ব্যবসা সাময়িক বন্ধ হলেও বর্তমানে পুরোদমে আবারো শুরু হয়েছে বিকিকিনি।বর্তমান প্রজন্ম এখন ইয়াবায় উম্মাদ! ইয়াবা এমন একটি মাদক যা মানুষকে শুধু মৃত্যুর দিকেই ঠেলে দেয়না, মৃত্যুর আগে ইয়াবাসেবীকে পাগলে পরিণত করে। আর এখন সেই ভয়াবহ মরণ নেশা ইয়াবা এখন বরিশালের বিভিন্ন স্থানে পাওয়া যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবকরা। ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য সহজলভ্য হওয়ায় উঠতি বয়সের তরুণ ও যুবসমাজ মাদকের মরণ নেশায় বুদ হয়ে এখন মাদকের বশ্যতা স্বীকার করেছে। মাদক ব্যবসায়ীরা ক্ষমতাশীন দলের নেতা ও কিছু সংখ্যক অসাধু পুলিশ সদস্যর পশ্রয়ে দেদার এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এবার বরিশালের কাশিপুর এলাকায় কাপড়ের দোকানের (দোকান মালিক) আড়ালে জমজমাট মাদক বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসনের চেখে ধুলো দিয়ে কাশিপুর ইছকাঠী এলাকার বাসিন্দা রাজু (২৭) ,শাহ পরান সড়কের সোহেল ফকির ও  লুৎফর রহমান সড়কের কিশোর গ্যাং নেতা শাকিল (২৩), যৌথভাবে নগরীর কাশীপুর বাজার সংলগ্ন কাপড়ের দোকানের আড়ালে বসে চালিয়ে যাচ্ছে মরন নেশা ইয়াবা ব্যানিজ্য। অনুসন্ধানে জানা গেছে,কাপড়ের ব্যাবসার আড়ালে নগরীর বিভিন্ন স্কুল কলেজ শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিচ্ছে মরন নেশা ইয়াবা। আর পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে তারা তিনজনে যৌথভাবে এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনের চোখে না পরে এজন্যই তারা কাপড়ের দোকান থেকেই ইয়াবার চালান বিভিন্ন স্থানে পৌছে দিয়ে থাকেন। বিশ্বস্ত এক সূত্র বলছে,বরিশালের বাহির থেকে ইয়াবার চালান বিভিন্ন গাড়ির মাধ্যমে নগরীর নথুল্লাবাদ এলাকায় আসে। পরবর্তীতে সেই চালান নথুল্লাবাদের পার্শ্ববর্তী এলাকা ২৯ নং ওয়ার্ড লুৎফর রহমান সড়কের মকবুল হোসেন’র পুত্র কিশোর গ্যাং নেতা শাকিল (২৩) নথুল্লাবাদ এলাকার বাচ্চু চেয়ারম্যান এর বাড়ির পিছনে চার তলা ভবনের ছাদে বসে মাদক ব্যবসার টাকার লেনদেন করে থাকেন। বরিশালের বাহির থেকে আসা ইয়াবার চালান শাকিল ও সোহেল একত্রীত হয়ে নগরীর বিভিন্ন স্থানে রাজুর মাধ্যমে সরবরাহ করে থাকে। ইতিমধ্যে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় তাদের সহযোগি তৈরি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অন্যতম রয়েছে,দেলোয়ার ওরফে অটো দেলোয়ার,দাদো ছালাম, লুৎফুর রহমান সড়কের জামালসহ ৯/১১ জন। এদিকে কাশীপুর ইছাকাঠী প্রধান সড়ক এলাকায় আইন শৃংখলা বাহিনী অভিযান করতে প্রবেশ করলে কাশিপুর বাজারের কাপড় দোকানী ব্যবসায়ী রাজু এলাকার মাদক ব্যবসায়ী সোহেল ফকিরকে জানিয়ে সতর্ক করে দেয়। সোহেল একই এলাকার হামিদ ফকিরের ছেলে। কাশিপুর এলাকার বক্কার মিয়ার পুত্র রাজু এতটাই চতুর প্রকৃতির যে, তিনি কাপড়ের দোকানের আড়ালে দীর্ঘদিন যাবত মরণ নেশা ইয়াবা বিক্রি করে আসছে। এ বিষয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র নাসির উদ্দিন মল্লিক জানান,মাদকের বিরুদ্ধে আমরা বরাবরই জিরো টলারেন্স ঘোষণা করে আসছি, আপনারা দেখেছেন বিগত দিনে মাদকের বীরুধে আমাদের সফল অভিযান। আর মাদক নির্মূলে আমাদের এরকম অভিযান সবসময় অব্যাহত থাকবে। আপনাদের কাছে যদি কোনো মাদক ব্যবসায়ীর তথ্য প্রমাণ থাকে তাহলে আমাদেরকে জানান, আমার এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

আরও খবর

Sponsered content