অপরাধ

বরিশালে আল-রাজ্জাক ও ভোজ বাড়ি হোটেলে অবাধে বিক্রি হচ্ছে পচা-বাসি খাবার!

  প্রতিনিধি ৭ জুন ২০২৩ , ২:৪৯:৫২ প্রিন্ট সংস্করণ

তালাশ প্রতিবেদক ॥ বরিশালে হোটেল-রেস্তরাঁয় অবাধে বিক্রি হচ্ছে পচা-বাসি খাবার। যা খেয়ে পেটের পীড়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। এজন্য বিভিন্ন সময় এসব হোটেল-রেস্তারাঁকে জেল-জরিমানা করা হলেও অনিয়ম বন্ধ হচ্ছে না। ব্যাঙ্গের ছাতার মতো নগরী জুড়ে গড়ে উঠেছে বহু হোটেল-রেস্তারাঁ। যেগুলোতে প্রতিদিন খাবার খাচ্ছেন লাখো মানুষ। কিন্তু কি খাচ্ছেন তারা?

 

অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন, খাদ্যের সঙ্গে নিষিদ্ধ দ্রব্যের মিশ্রণ, ফ্রিজে বাসি পচা দুর্গন্ধযুক্ত খাবার সংরক্ষণ ও বিক্রির অপরাধে গত ২০২০ সালের ৯ মার্চ বরিশালের চরকাউয়া খেয়াঘাট এলাকার আল-রাজ্জাক হোটেল ও ভোজ বাড়ি রেস্তোরাকে জরিমানা করা হয়েছিলো। তার পরও ছোটো খাটো অনেক অভিযান হয়েছে।

 

৫ জুন মধ্যরাতে হোটেল আল-রাজ্জাকে খাবার খেতে যান ৫ সংবাদকর্মী। খাবার অর্ডার দেয়ার পরে খিচুরি ও মুরগীর মাংস দেন হোটেল স্টাফ। সেই খাবার খেতে গিয়ে তারা বুঝতে পারেন তাদেরকে মরা ও পচা মাংস খেতে দেয়া হয়েছে। তাৎক্ষনিক হোটেল মালিক রাজ্জাককে জানালে তিনি বলেন এটা কোনো বিষয়না দাম রাখবোনা। হোটেল থেকে বের হওয়ার পরে ৩ সংবাদকর্মী অসুস্থ হয়ে পরে। প্রথমে প্রচুর বমী হয়। পরে বাসায় গেলে পেট ব্যাথা শুরু হয়। স্থানীয় চিকিৎসকের পরামর্শে সুস্থ হন তারা।

 

এরই সুত্র ধরে সরেজমিনে দেখা যায় ভয়াবহ চিত্র। আল-রাজ্জাক হোটেল ও ভোজ বাড়ি রেস্তোরার রান্না ঘরে অসাস্থ্যকর পরিবেশে চলছে রান্নাবান্না। আর ওই খাবারের ওপর মাছি উড়ে এসে বসছে। তাদের রান্নাঘরের ফ্রিজে জমিয়ে রাখা হয়েছে কয়েকদিনের পুরনো রান্না করা মাছ-মাংস। যেগুলো প্রায় পঁচে গেছে। এ মাংসই গরম করে খাওয়ানো হবে ক্রেতাকে। মাছ-মুরগী ভাজা হচ্ছে অনেকদিনের পোড়া তেলে। পচা মাছ ও গরুর পচে যাওয়া পায়াও দেখা যায় ফ্রিজে। রান্নার কড়াইয়ের ঢাকনা রাখা হয় ফ্লোরে। যেখানে জুতার ময়লায় পড়ানো হয় ঢাকনা গুলোকে। মাছ, মাংস, সবজী ধোয়ার জায়গায় দেখা যায় পোঁকার আনাগোনা। তবে পোঁকার সাথে কেঁচোরও দেখা মেলে।

 

আমাদের উপস্থিতি দেখে মুখ খোলেন স্থানীয় ও খাবার খেতে আসা সাধারন মানুষ। নাম না বলার শর্তে এক চায়ের দোকানদার বলেন এরা মরা মুরগী গুলো কিনে বিক্রি করে রান্না করে। যাতে এক টুকরো মরা মুরগীর মাংস কেউ ধরে ফেললে ভালো টুকরো দেখিয়ে বোঝাতে পারে। আবার এতে অধিক লাভো হয়।

 

খাবার খেতে আসা সফিক খান বলেন, আমি ওদের খাবারে খেয়ে অনেক কিছুই বুঝি তবে ধরতে পারিনি। আজ আপনাদের কারনে দেখলাম। এরা প্রতারক, এদের হোটেল বন্ধ করে দেয়া উচিত।

 

এ বিষয়ে বরিশাল জেলা প্রশাসকের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।

আরও খবর

Sponsered content