অপরাধ

বরিশাল স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ!

  প্রতিনিধি ২৬ মার্চ ২০২৪ , ১:৩৫:৪১ প্রিন্ট সংস্করণ

ফাইজুল ইসলাম ॥ নিয়ম না মেনে অনিয়ম আর দুর্নীতির পথেই হাঁটছে বরিশাল স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (এইচইডি)। অনিয়মের ভারে বরিশাল জেলার স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (এইচইডি) যেন ভুগছে স্বাস্থ্যহীনতায়। লুটপাটে নেমেছে সংশ্লিষ্টরা। সেই সঙ্গে টেন্ডারে গোপন স্টিমিট অর্থের বিনিময়ে অবৈধ ভাবে প্রকাশ করার অভিযোগো রয়েছে। এমন অভিযোগ ঠিকাদারদের।

 

তাদের দেয়া অভিযোগের ভিত্তিতে জানা গেছে, বরিশাল স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে ৭ মার্চ ২০২৪ সনের, স্মারক নং: ৪৫.০২.০০০০.৩৪৩.১৮.০০১.২৪-২৫৭ এর মাধ্যমে ১২ টি প্যাকেজের ই-জিপি সিস্টেমে দরপত্র আহ্বান করা হয়। এই দরপত্র আহবান করার পরে আদনিন কনস্ট্রাকশন, নির্মাণ কনস্ট্রাকশন, রাশিদ এন্ড সন্স ও মাদার্স কনস্ট্রাকশন অংশগ্রহন করেন। নিয়ম অনুযায়ী এই দরপত্রের সাথে নমুনা স্টিমিট দেয়ার কথা। কিন্তু একাংশ ঠিকাদারের অভিযোগ নমুনা স্টিমিট ব্যতিরেখে গোপনীয় স্টিমিট কিছু প্রতিষ্ঠান অবৈধভাবে অর্থের বিনিময়ে কিনে নিয়ে টেন্ডারে অংশগ্রহন করে। এর কারনে তারাই কাজ বাগিয়ে নিয়ে যায়।

 

যার প্রমাণ হিসেবে দেখা যায় টেন্ডার খোলার রিপোর্টে। ২৫ মার্চ টেন্ডার খোলার রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়। যেখানে অফিস স্টিমিটে উল্লেখ করা হয় ৩২৪৬০৮১.৪৯২ টাকা। সেখানে আগেই স্টিমিট হাতে পাওয়া প্রতিষ্ঠান গুলো সর্বোচ্য দরদাতা হয়ে কাজ পেয়ে যায়। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- আদনিন কনস্ট্রাকশন (রেট- ২৯২১৪৭৪.১৬১) ও মাদার্স কনস্ট্রাকশন (রেট- ২৯৪১২৫০.০০০)।

 

কথা হয় ঠিকাদার মো: জুবায়েরের সাথে- তিনি অভিযোগ করে বলেন- স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ (এইচইডি) এর নির্বাহী প্রকৌশলী ইঞ্জি. মো. জাকির হোসেন তার পছন্দমতো ঠিকাদারদের অবৈধভাবে অর্থের বিনিময়ে গোপনীয় স্টিমিট দিয়ে টেন্ডার বাগিয়ে নিতে সাহাজ্য করেন। আমরা এই বিষয়টি নিয়ে হতাসাগ্রস্থ। তাকে অপসারন করে সৎ একজন নির্বাহী প্রকৌশলী সংযুক্ত করার জোর দাবি জানাই।

 

এম.এস নির্মান কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী জিল্লুর রহমান বলেন- এই কাজের সঠিক স্টিমিট এইচইডি অফিস ঢাকা পাঠায়। এটা কারো হাতে আসার কথানা। তবে এইচইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাকির হোসেনের নেক নজর থাকলে সবই সম্ভব।

 

ঠিকাদার মো: রেজা বলেন- ওটিএমের যে নিয়ম আছে পারফেক্ট টেন্ডারে তা এইচইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাকির হোসেন মানছেনা। তিনি লোকজন সিলেক্ট করে একুরেট স্টিমিট যাদের দেয় তারাই টেন্ডার পায়। আমরা নিয়মের ভিতরে থেকে কাজ করতে চাই। কিন্তু এখানেতো অনিয়মি নিয়ম। তাকে অপসারনের দাবি জানাই।

 

বরিশাল স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ (এইচইডি) এর নির্বাহী প্রকৌশলী ইঞ্জি. মো. জাকির হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করেও পাওয়া জায়নি। অফিসে গেলেও তাকে পাওয়া জায়নি।

 

এবিষয়ে বরিশাল স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ (এইচইডি) এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী গোলাম মাহবুবের সাথে তার অফিসে দেখা করতে গেলে তাকে না পেয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি অভিযোগের কথা শুনে বলেন- এসব কথা এভাবে বলা যায়না। আপনার কোনো কথা থাকলে অফিসে আসবেন। সামনা সামনি কথা বলবো।

আরও খবর

Sponsered content